নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার ছিল বিয়ের দিন। হাবড়ায় একটি বিয়ে বাড়ির প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। কিছুক্ষণ পর বর বেরবেন বিয়ে করতে। ঠিক সেই সময় বরের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে পড়লেন এক মহিলা। দাবি করলেন, ‘তিনি পাত্রের প্রথম পক্ষের স্ত্রী। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন স্বামী। এটা কোনওভাবেই হবে না।’ বিয়ের সানাইয়ের মধ্যেই শুরু হয় হট্টগোল। সব মিলিয়ে শনিবার রাতে শোরগোল পড়ে যায় হাবড়ার জয়গাছি এলাকায়। যদিও শেষমেশ পুলিসের হস্তক্ষেপে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বর রাকেশ পাল।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে রাকেশের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় সৌমি রায়ের। তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত। শনিবার রাকেশের বিয়ের খবর পেয়ে কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে সৌমি সটান চলে আসেন রাকেশের বাড়িতে। আত্মীয়রা বিয়ের প্যান্ডেলে ঢুকে পড়ে হইচই শুরু করেন। আর সৌমি রাস্তায় ধর্নায় বসেন। বরবেশে রাকেশ তখন সবে বিয়ে করতে বেরবেন। সেই সময় ‘বাধা’ দেন সৌমি। বলেন, ‘রাকেশ আমার স্বামী। বিচ্ছেদের মামলা চলছে। এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আর ডিভোর্স কেসে আমার সই জাল করা হয়েছে। এনিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। আমি সংসার করতে চাই।’
পাল্টা রাকেশ বলেন, প্রায় চার বছর আমি একাই থাকি। বিয়ে হওয়ার ছ’মাস পর থেকেই সৌমি আমাদের বাড়ি থেকে চলে গিয়ে বাপের বাড়ি থাকতে শুরু করে। তারপর একাধিক নোটিস পাঠিয়েছিলাম। শেষে আইনি প্রক্রিয়াতে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাবড়া থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিস জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তাই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সবটাই আইন মতো হয়েছে। - নিজস্ব চিত্র