নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: গ্রামের পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হবে না! সম্প্রতি পুরুলিয়া শহরের শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের এমন নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ফর্ম তুলতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এনিয়ে বৃহস্পতিবার স্কুলের গেটের বাইরে অভিভাবকরা বিক্ষোভও দেখান।
Advertisement
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য গত ২৫নভেম্বর থেকে ফর্ম বিলি শুরু হয় শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে। বুধবার ছিল ফর্ম দেওয়ার শেষ দিন। ফর্ম না পেয়ে বৃহস্পতিবার স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বহু অভিভাবক। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র গ্রামের বাসিন্দা হওয়ার কারণে ফর্ম দেওয়া হয়নি। সুকুমার সেনগুপ্ত নামের এক অভিভাবক বলেন, আমরা কিছুদিন আগেই ফর্ম তুলতে এসেছিলাম। বলা হয়, পুরসভা এলাকার বাসিন্দারাই ফর্ম তুলবেন। এনিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের ৫ ডিসেম্বর আসতে বলেন। এদিন আমরা স্কুলে এসে ফের ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করি। তখন উনি বলেন, স্কুলের দু’কিমির মধ্যে বাড়ি হতে হবে। পুরসভার বাসিন্দার প্রমাণপত্র দেখব, তবেই ফর্ম দেব।
অপর এক অভিভাবক কুদ্দুস আনসারি বলেন, আমার বড় মেয়ে এই স্কুলেই পড়ে। ছোট মেয়ের জন্য ফর্ম তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু, জানানো হয়, স্কুলের দু’কিলোমিটারের মধ্যে যাঁদের বাড়ি তাঁদেরই একমাত্র ফর্ম দেওয়া হবে। আমার বাড়ি পালঞ্জায়। স্কুল থেকে গ্রামের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও ফর্ম দেয়নি। আসলে গ্রামের লোকেদের ফর্ম দিতে চাইছে না।
এনিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী পাল অবশ্য বলেন, গ্রামের পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হবে না, এমনটা নয়। তবে, ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা মূলত শহরের বাসিন্দাদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কুলের ছ’টি শ্রেণিকক্ষের ভগ্নপ্রায় অবস্থা। ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। সেইসব ঘরে পড়ুয়াদের বসানোর মতো পরিকাঠামো নেই। অত পড়ুয়া ভর্তি নিলে বসাব কোথায়? তাই পঞ্চম শ্রেণিতে কম সংখ্যক পড়ুয়াকে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্দ্রাণীদেবী জানান, গতবার পঞ্চম শ্রেণির চারটি বিভাগে মোট ৩৬৫জন পড়ুয়াকে ভর্তি নেওয়া হয়। পড়ুয়াদের বসার ঘর না থাকার কারণে এবছর একটি সেকশন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতে প্রায় ১০০ পড়ুয়া কমবে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের দাবি, বিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করছে। ভগ্নপ্রায় শ্রেণিকক্ষ মেরামত না করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এমন উদাসীনতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এব্যাপারে জেলা স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্কুলের সঙ্গে কথা বলব। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে কোনও পড়ুয়া যাতে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
অপর এক অভিভাবক কুদ্দুস আনসারি বলেন, আমার বড় মেয়ে এই স্কুলেই পড়ে। ছোট মেয়ের জন্য ফর্ম তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু, জানানো হয়, স্কুলের দু’কিলোমিটারের মধ্যে যাঁদের বাড়ি তাঁদেরই একমাত্র ফর্ম দেওয়া হবে। আমার বাড়ি পালঞ্জায়। স্কুল থেকে গ্রামের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও ফর্ম দেয়নি। আসলে গ্রামের লোকেদের ফর্ম দিতে চাইছে না।
এনিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী পাল অবশ্য বলেন, গ্রামের পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হবে না, এমনটা নয়। তবে, ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা মূলত শহরের বাসিন্দাদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কুলের ছ’টি শ্রেণিকক্ষের ভগ্নপ্রায় অবস্থা। ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। সেইসব ঘরে পড়ুয়াদের বসানোর মতো পরিকাঠামো নেই। অত পড়ুয়া ভর্তি নিলে বসাব কোথায়? তাই পঞ্চম শ্রেণিতে কম সংখ্যক পড়ুয়াকে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্দ্রাণীদেবী জানান, গতবার পঞ্চম শ্রেণির চারটি বিভাগে মোট ৩৬৫জন পড়ুয়াকে ভর্তি নেওয়া হয়। পড়ুয়াদের বসার ঘর না থাকার কারণে এবছর একটি সেকশন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতে প্রায় ১০০ পড়ুয়া কমবে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের দাবি, বিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করছে। ভগ্নপ্রায় শ্রেণিকক্ষ মেরামত না করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এমন উদাসীনতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এব্যাপারে জেলা স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্কুলের সঙ্গে কথা বলব। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে কোনও পড়ুয়া যাতে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।



