Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ, শুরু হল আইপিএইচএস সমীক্ষা

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ, শুরু হল আইপিএইচএস সমীক্ষা
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হল সরকার। লক্ষ্য, গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য স্তরের সর্বত্র মান উন্নয়ন। সেজন্য এবারই প্রথম গোটা রা঩঩জ্যের পাশাপাশি বীরভূমের দুই স্বাস্থ্যজেলাতে শুরু হয়েছে আইপিএইচএস (ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ড) সার্ভে। ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সার্ভে চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার ডেপুটি সিএমওইচ ১ অমিতাভ সাহা বলেন, এই সার্ভের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত দিকটি দেখা হবে। নির্দিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে এই সার্ভে চলছে। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই আগামী অর্থবর্ষে পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।  
Advertisement
গত কয়েক বছরে রাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু পরিকাঠামো ও কর্মীর অভাবে এক একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবার মান ভিন্ন। এনআরএইচএমের লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। সেই লক্ষ্যেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাদে রামপুরহাট ও বীরভূম স্বাস্থ্যজেলার অধীনে থাকা বিপিএইচসি, পিএইচসি, রুরাল হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, সাব সেন্টারগুলি পরিকাঠামোর দিক থেকে কে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটা জানতেই এই সার্ভে। সেক্ষেত্রে দেখা হবে, পর্যাপ্ত কর্মী, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, পরীক্ষাগার, রক্ত সংরক্ষণের সুবিধা, ওষুধপত্র রাখার ব্যবস্থা আছে কি না। এছাড়া টয়লেট, কিচেন, লন্ড্রি সহ নানা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেটা দেখা হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশে গঠিত জেলা ও ব্লক স্তর মিলিয়ে ছ’টি টিম এই সার্ভে চালাচ্ছে। যাদের রাজ্য থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১৫০ স্কোরের মধ্যে ১২০ স্কোর লাভ করলে আইপিএইচসি মাপকাঠি অনুযায়ী পাশ করবে। যদি না পারে, সেক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত যা অভাব আছে, তা জানাতে হবে সরকারকে। পরে পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে আগামী অর্থবর্ষে ফান্ড বরাদ্দ হবে। যাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির অভিন্নতা বজায় রাখা যায় এবং সর্বোত্তম মানসম্মত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়। এতে যেমন মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের উপর থেকে রোগীর চাপ কমে আসবে। তেমনি গ্রামে বসেই চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসার মান উন্নয়ন করা গেলে রেফারের সংখ্যাও কমে আসবে। 
অমিতাভবাবু বলেন, এখানে পাশ করাটা আমাদের লক্ষ্য নয়। সঠিক তথ্য তুলে নিয়ে আসা। যাতে আমরা বুঝতে পারি পরিকাঠামো, কর্মী, প্রশিক্ষণ বা গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যা যা সুবিধা থাকা উচিত, সেই নিরিখে কে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর ভিত্তিতে স্কোরিং করা হচ্ছে। 
এছাড়া হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি মাসিক রিপোর্ট জমা দিয়ে থাকে। এই সার্ভের মাধ্যমে সেই রিপোর্টের সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। 
স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, আইপিএইচসির মাপকাঠি ছুঁতে পারছে না, এমন ৫০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করাই হবে লক্ষ্য। 
উল্লেখ্য, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রায়ই ক্ষোভ বিক্ষোভ লেগে থাকে। কোথাও চিকিৎসকের বদলে পরিষেবা দিচ্ছেন ফার্মাসিস্ট। কোথাও আবার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোর অভাব থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা জেলাস্তরের হাসপাতাল রেফার করা হয়। সেখানে আসার ক্ষেত্রে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ব্যয়সাধ্য হয়ে ওঠে। তাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে চিকিৎসা পরিষেবারও মান উন্নয়ন হবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। সেই সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ