Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামজুড়ে শুধুই ধুলোর আস্তরণ, কারখানার দূষণে জেরবার আড়ষার একাধিক এলাকা

গ্রামজুড়ে শুধুই ধুলোর আস্তরণ, কারখানার দূষণে জেরবার আড়ষার একাধিক এলাকা
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁটাডি: বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে অ্যাসবেস্টসের চালে কালো ধুলোর আস্তরণ। ধুলোর পুরু অস্তরণ জমেছে গাছের পাতা থেকে শুরু করে ধান জমিতে। এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ। শিল্প দূষণের জেরে জেরবার পুরুলিয়ার আড়ষা থানার কাঁটাডি ফাঁড়ি এলাকার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ, সব জেনেও ‘চুপ’ রয়েছে প্রশাসন। পুরুলিয়া থেকে বলরামপুর যাওয়ার পথে কাঁটাডির পরেই রয়েছে কৌরাং। ওই এলাকায় জাতীয় সড়কের উপরেই রয়েছে একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানা। আশেপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের যত অভিযোগ ওই কারখানাকে ঘিরেই। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানার দূষণে কোনও লাগাম নেই।  শীত পড়তে তা মাত্রছাড়া জায়গায় পৌঁছেছে। গাছের পাতা, থেকে শুরু গৃহস্থের ঘরবাড়ি, সবকিছুই ঢেকে গিয়েছে কালো ধুলোর পরতে। কারখানার কালি মিসছে এলাকার জলেও। প্রতিদিন সকালে কালো আস্তরণ পড়ছে কুয়োর জলে। সেই জলই পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। কারখানার লাগোয়া বিঘার পর বিঘা ধানের জমি রয়েছে। কালো ধুলোয় ঢাকছে ধানের খেত। ধানের ফলন কম হচ্ছে। সেইসঙ্গে ধান কাটতে গেলে কার্যত কালো ভূত হয়ে যেতে হচ্ছে চাষিদের। ধান ঝারার পর সেই খড় পেটে যাচ্ছে গবাদি পশুর। 
Advertisement
বাসিন্দারা বলেন, শুধু বাইরে বেরলেই ধূলিকণা মাথার চুলে, ত্বকে মিসছে। এভাবে চলতে থাকলে তো বিভিন্ন রোগে ভুগতে হবে বাসিন্দাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দূষণের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে কৌরাং জুড়ি, পুয়ারা, খুকড়ামুড়া, ভালিকা, পাঁজনবেড়া সহ আশেপাশের এলাকায়। বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দূষণের জেরে জেরবার। মানুষজন রীতিমতো ক্ষুব্ধ। কিন্তু প্রশাসন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। বাসিন্দারা নিজেদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলেও। নেতারা বাসিন্দাদের নিয়ে কারখানাতেও কথা বলতে গিয়েছেন। যদিও তাতেও কোনও লাভ হয়নি। পরিস্থিতি সেই তিমিরেই রয়েগিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর মাহাত, তপন মাহাতরা বলেন, যে নেতাকেই নিয়ে যাচ্ছি, সেই টেবিলের তলায় সবকিছুর রফা করে নিচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগ কিছুতেই ঘুঁচছেই না। পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, এলাকার বাতাসের মান ‘খারাপ’। তাছাড়া বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা পিএম ১০ ও পিএম ২.৫-এর পরিমাণও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এক পরিবেশবিদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে এই ধূলিকণা শ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস, হার্ট ও মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায়। প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত তড়িঘড়ি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ