সংবাদদাতা, সিউড়ি: দেউচা পাচামি কয়লা খনি শিল্পাঞ্চল এলাকায় গ্রামবাসীদের পাশাপাশি সেখানকার মহুয়া গাছের জঙ্গলকেও এবার পুনর্বাসন দেওয়ার উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। ৪০ থেকে ৪৫ বছরের পুরনো এই মহুয়ার জঙ্গল কেটে ধ্বংস করতে ক্ষণিকের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। কিন্তু এই প্রাচীন জঙ্গলের সৌন্দর্য ধ্বংস করার পরিবর্তে এলাকার আদিবাসী মানুষের আবেগকে বেশি প্রাধান্য দিতে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। তাই মহুয়ার জঙ্গলকে সমূলে উৎপাঠিত করে তাকে অনুরূপ একটি জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সাম্প্রতিককালে নতুন শিল্প অথবা আবাসন কোনও কিছু নির্মাণ করার জন্য জঙ্গল নিধন করা একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়ে গেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ স্লোগানকে সঙ্গে নিয়ে দেউচা পাচামি কয়লা খনি শিল্পাঞ্চল এলাকায় হতে চলেছে জঙ্গলের পুনর্বাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কয়লা খনি প্রকল্প চাঁদা মৌজার মথুরাপাহাড়ি এলাকা থেকেই খনি প্রকল্পের প্রাথমিক খননকার্য শুরু করবে প্রশাসন। তার জন্য অন্যান্য যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চলছে। পাশাপাশি খনি প্রকল্প এলাকায় যেসব গ্রাম এবং বসতি রয়েছে, সেইসব গ্রামবাসীকে অন্য একটি জায়গায় পুনর্বাসন প্যাকেজের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হবে। কিন্তু যেখান থেকে খনি প্রকল্পের খননকার্য শুরু হবে, সেই জায়গায় রয়েছে একটি প্রাচীন মহুয়া গাছের জঙ্গল। সেই জঙ্গলে রয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ বহু পুরনো পূর্ণবয়স্ক মহুয়া গাছ। তাছাড়াও রয়েছে কিছু অর্জুন, শিরীষ ও শাল গাছ। সবমিলিয়ে রয়েছে মোট ৯৮০টি পূর্ণবয়স্ক গাছ। অর্থাৎ একটি সুন্দর জঙ্গলের পরিবেশ রয়েছে সেখানে। কয়লা খনির খনন কার্য করতে গেলে এই জঙ্গল হয় সরিয়ে ফেলতে হবে, নাহয় ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু এই প্রাচীন জঙ্গলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের আবেগ। তাই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই জঙ্গলের প্রাচীন গাছগুলিকে যন্ত্রাংশের মাধ্যমে শিকড় সমেত মাটি থেকে উপরে ফেলে তাকে বসানো হবে ওই একই মৌজার অন্য একটি সরকারি ভেস্টেড জমিতে। এর জন্য গাছ স্থানান্তরিত করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করছে জেলা প্রশাসন। তবে সূত্রের খবর, এই জঙ্গল পুনর্বাসনের জন্য বীরভূম জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রশংসা পেয়েছে নবান্নের। প্রাথমিকভাবে নবান্নের তরফে অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন সংস্থা এই কাজ করবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হতে বাকি রয়েছে। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন জঙ্গল তৈরির জন্য ওই এলাকার কাছেই আরও একটি জায়গায় প্রায় ছয় হাজার শাল, মহুয়া সহ অন্যান্য গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ফলে কয়লা শিল্পের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশও বজায় থাকবে সুষ্ঠুভাবে।
গাছের এই পূনর্বাসন প্রসঙ্গে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, দেউচা পাচামির চাঁদা মৌজা থেকে খনন কার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেখানে একটি মহুয়া গাছের জঙ্গল রয়েছে। আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের পুনর্বাসন দিচ্ছি সরকারিভাবে। তেমন ওখানকার গ্রামবাসীদের কথা মাথায় রেখে এবং পরিবেশের ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে ওই মহুয়ার জঙ্গলটিকেও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গোটা জঙ্গলটিকে কীভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই প্রচেষ্টা চলছে।



