Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামবাসীদের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াল কাটোয়ার সিঙ্গি জুনিয়র হাইস্কুল, ছাত্রী সংখ্যা এক থেকে বেড়ে দাঁড়াল ১৮

গ্রামবাসীদের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াল কাটোয়ার সিঙ্গি জুনিয়র হাইস্কুল, ছাত্রী সংখ্যা এক থেকে বেড়ে দাঁড়াল ১৮
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্কুল বাঁচাতে এককাট্টা গ্রামের বাসিন্দারা। পড়ুয়া খুঁজে আনতে গ্রামে গ্রামে মিটিং, প্রচার, ফ্লেক্স টাঙানো সবই হয়েছিল বাসিন্দাদের প্রচেষ্টায়। সুফল মিলছে এখন। একমাস আগে যেখানে মাত্র একজন ছাত্রী ছিল, সেখানে এখন ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। গ্রামের তিন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কাটোয়ার সিঙ্গি জুনিয়র গার্লস স্কুলে বিনা পারিশ্রমিকেই পড়াচ্ছেন। ছাত্রী ভর্তি এখনও চলছে। খুশি গ্রামের বাসিন্দারা। 
Advertisement
কাটোয়া-২ ব্লকের সিঙ্গি কাশীরাম দাস বালিকা বিদ্যালয় জুনিয়র স্কুলে মাত্র একজন ছাত্রী ছিল। তার জন্যই প্রতিদিন খুলত স্কুল। ক্লাস হতো নিয়মিত। স্কুলে নির্ধারিত সময়ে বাজত ঘণ্টা। ২০১০ সালে শুরুর দিকে এই স্কুলে দেড়শোর উপরে পড়ুয়া ছিল। ২০১২ সাল থেকে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। ২০২০ সালে মামলা চলার কারণে স্কুল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আবার চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি চালু হয়। কিন্তু পড়ুয়া হিসেবে মাত্র একজনকেই পাওয়া গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা স্কুলটিকে বাঁচানোর জন্য মাইক ফুঁকে, লিফলেট বিলি করে, পোস্টার সাঁটিয়ে পড়ুয়ার সন্ধানে নামেন। এখন ওই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন অতিথি শিক্ষক। তাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাশীনাথ পাল, দীনবন্ধু বাস ও প্রভাতকুমার চৌধুরী এগিয়ে এসেছেন। তাঁরা বিনা বেতনেই নিয়মিত স্কুলে ক্লাস নিচ্ছেন। কাশীনাথ পাল বলেন, আমি তো পেনশন পাই। তাই গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে স্কুলটিকে টিঁকিয়ে রাখতে আমি নিয়মিত পড়াই। 
গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন ভট্টাচার্য বলেন, আমরা  লিফলেট  বিলিও করেছিলাম। স্কুল বাঁচাতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ গ্রামে স্কুল নেই, পাশের তিন কিমি দূরে ওকড়শা স্কুলে গ্রামের মেয়েদের পড়তে যেতে হতো। গ্রামে যখন জুনিয়র স্কুল রয়েছে, তাহলে আমরা সেটাকেই ভালো করে দাঁড় করাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছি। 
যেখানে একজন ছাত্রী ফাঁকা বেঞ্চে বসে ক্লাস করত, সেখানে এখন গমগম করছে গোটা স্কুল চত্বর। এখন সার দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে ছাত্রীরা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজিবুল হক বলেন, স্কুলে শিক্ষকের অভাব মেটাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিনা পারিশ্রমিকেই পড়ান। শীঘ্রই ছাত্রী আরও বাড়বে। 
সম্পর্কিত সংবাদ