সংবাদদাতা, কাঁথি: লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা অনেকদিন ধরেই। তাই বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে সমস্যার সুরাহা এবং নতুন ট্রান্সফর্মারের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি। সেই কারণে বকেয়া বিলের প্রেক্ষিতে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া শ্যালোর পুনরায় সংযোগ করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের একাংশের বাধার মুখে পড়েন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। তাঁরা ফিরে আসেন। বর্তমানে শ্যালোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থাতেই রয়েছে। এর ফলে ভগবানপুর-২ ব্লকের জুখিয়া পঞ্চায়েতের একতারপুরের দেবনাথপল্লি এলাকায় ৮০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বোরো মরশুমে চাষ করতে না পেরে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তাঁরা এবিষয়ে পুলিস-প্রশাসনের সর্বস্তরে আবেদনপত্র জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ছ’সাত বছর ধরে দেবনাথপল্লির লক্ষ্মীকান্ত বেরার শ্যালো থেকে দেওয়া জলে ওই গ্রামের চাষিদের ৮০ বিঘা জমির চাষ হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে শ্যালোয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই ট্রান্সফর্মার থেকেই এলাকায় একটি বড় অংশের বাসিন্দাদেরও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি ট্রান্সফর্মারের উপর চাপ পড়ছে। এর ফলে লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের সমস্যায় দু’বছর ধরে ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা। এরই মাঝে শ্যালোমালিক লক্ষ্মীকান্তবাবুর মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বাকি ছিল। বিদ্যুৎ দপ্তর সংযোগ বিচ্ছিন্নও করে দেয়। লক্ষ্মীকান্তবাবু পরবর্তীকালে টাকা শোধ করে দেন। সপ্তাহখানেক আগে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা সংযোগ করতে যান। সেখানেই গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁদের জানান, লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হয় পুরনো ট্রান্সফর্মারটি ঠিক করতে হবে, নতুবা নতুন ট্রান্সফর্মার দিতে হবে। নাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে দেওয়া হবে না। বাধা পেয়ে ফিরে যান দপ্তরের কর্মীরা। সোমবারও সংযোগ করতে গেলে অনুরূপভাবে বাধা দেওয়া হয়। এমনকী শ্যালো মালিক লক্ষ্মীকান্তবাবুকে কয়েকজন মারধর করে বলে অভিযোগ। বিষয়টি ভূপতিনগর থানায় জানান তিনি।
Advertisement
শ্রীনিবাস মাইতি, বাবুলাল বেরা প্রমুখ চাষিরা বলছেন, এখন বীজতলা হয়েছে। চাষের কাজের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ না পেলে জলের অভাবে বোরো চাষ হবে না। আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। অনাহারে দিন কাটাতে হবে। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অম্বিকেশ মান্না বলেন, এলাকার চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। অবিলম্বে যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়, তার জন্য আমরা সর্বস্তরে আবেদন জানিয়েছি। বিদ্যুৎ দপ্তরের মাধাখালি বিভাগের স্টেশন ম্যানেজার রবিশঙ্কর বেরা বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। আমরা পুলিস-প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। সেখানে নতুন ট্রান্সফর্মার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, আমরা দেখছি। ভূপতিনগর থানার ওসি মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।



