নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক অভিযোগ বা পরামর্শ থাকে। সেসবের নিষ্পত্তি যাতে দ্রুত হয়, তার জন্য অনেকেই এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্যদের কাছে আর্জি জানান। সদস্যরাও সেগুলি পিএফের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসগুলিতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অছি পরিষদের সদস্যদের তরফে পাঠানো সেইসব ‘রেফারেন্স’ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসের কোনও হেলদোল নেই। ফলে সাধারণ গ্রাহকের অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি অধরাই থেকে যায়। এনিয়ে এবার সরব হলেন কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য শিওপ্রসাদ তেওয়ারি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমসচিব সুমিতা দাওরা। কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের শীর্ষে পদাধিকারবলে থাকেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী। পরিষদের সদস্যদের মধ্যে থাকেন কর্মচারী ও কর্মদাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা, যাঁরা পিএফ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে অংশ নেন। এছাড়া আলাদা করে গঠন করা হয় এগজিকিউটিভ কমিটি, যার শীর্ষে পদাধিকারবলে থাকেন কেন্দ্রীয় শ্রমসচিব। এই কমিটিতেও থাকেন কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্যরা। সম্প্রতি এই কমিটির বৈঠকে আঞ্চলিক অফিসগুলির উদাসনীতা নিয়ে সরব হন শিওপ্রসাদ তেওয়ারি। তাঁর কথায়, বহু মানুষ পিএফ সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন, যাতে তার দ্রুত সমাধান হয়। আমরাও সেই অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট অফিসগুলিতে পাঠিয়ে দিই, যাতে অফিসাররা দ্রুত পদক্ষেপ করেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, বেশকিছু আঞ্চলিক অফিস এই বিষয়ে দারুণভাবে সহযোগিতা করলেও কিছু অফিস তাতে আমল দিচ্ছে না। এমনকী ই-মেল বা চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার পর্যন্ত করা হচ্ছে না।
Advertisement
শিওপ্রসাদবাবুর কথায়, বিষয়টি আমি এগজিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের নজরে আনার পর তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আলাদা করে একটি ‘ড্যাশবোর্ড’ তৈরি করতে হবে, যেখানে অছি পরিষদের সদস্যদের পাঠানো রেফারেন্সগুলির রেকর্ড থাকবে। নিয়মিতভাবে তাতে নজরদারি চালানো হবে এবং সাধারণ গ্রাহকের অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি যথাসময়ে হচ্ছে কি না, দেখা হবে তাও। এই বিষয়ে কোনও গাফিলতি সামনে এলে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে শাস্তির মুখ পড়তে হতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে।



