অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: শিল্ড ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল পানাজিওটিস ডিম্পেরিসের! সরু সুতোয় ঝুলছিল তাঁর চাকরি। মরশুমের শুরুতে ডুরান্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ১-৪ গোলে হারের লজ্জায় ডুবেছিল তাঁর দল। আরও একটি খেতাবি লড়াইয়ে হারলে বিদায় কার্যত নিশ্চিত। তাই বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ড ফাইনাল পানোসের কাছে ছিল অগ্নিপরীক্ষা। আর তাতে ভালোমতোই উতরে গেলেন গ্রিক কোচ। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দিচ্ছিল কতটা স্বস্তিতে তিনি। মুখে হাজার ওয়াটের হাসি নিয়ে বললেন, ‘ছেলেরা অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলেই এই জয়। তবে সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের।’
জাতীয় দল থেকে ফেরা তিন ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রেখে দল সাজিয়েছিলেন পানোস। ঝুঁকিকে সাফল্যে পরিণত করার কারিগর সাহাল, অভিষেক টেকচাম ও মেহতাব। তবে আলাদা করে বলতে হবে অভিষেকের কথা। হেভিওয়েট ম্যাচ খেলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাঠে নেমে নিংড়ে দিলেন নিজেকে। আর তাঁদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচও। তাঁর সংযোজন, ‘জাতীয় শিবির থেকে ফিরেই ডার্বি খেলা মুখের কথা নয়। কিন্তু আমার ছেলেরা যোদ্ধা। ক্লান্তি ভুলে বীরের মতো লড়াই করেছে। ওদের জন্য কোনো কৃতিত্বই যথেষ্ট নয়।’
পানোসের পাশাপাশি শিল্ড জিতে উচ্ছ্বসিত এদিনের নায়ক জেলকোভিও। তাঁর একমাত্র গোলেই বাজিমাত সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের। ম্যাচ প্রসঙ্গে বসনিয়ান মিডিও মন্তব্য, ‘কলকাতা লিগ ও আরও বিভিন্ন কারণে টিমটা একসঙ্গে অনুশীলন বা খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না। এদিন সেটা পেরেছি। তাই পুরো টিম থাকলে মোহন বাগান কী করতে পারে তা দেখিয়ে দিলাম। গোল করে দারুণ অনভূতি হয়েছে। তবে কৃতিত্ব সবার। দলগত প্রচেষ্টাতেই এসেছে জয়।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘শুক্রবার এই জয়ের সেলিব্রেশনে মেতে থাকব। তারপরই আইএসএলের প্রস্তুতি শুরু। এবার দেশের সেরা হওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
বসনিয়ার মিডিও ম্যাচের নায়ক হলেও এদিন গ্যালারির হিরো ছাংতে। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ কিংবা আক্রমণ—গোটা মাঠে ছাপ রাখলেন তিনি। তাঁর দৌড়েই ছারখার লাল-হলুদ রক্ষণ। শিল্ড হাতে মিজো উইঙ্গার জানালেন, ‘কোচ আমায় যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা পালনের চেষ্টা করেছি। সমর্থকদের জন্য এই জয়টা প্রয়োজন ছিল। তাঁদের মুখে হাসি দেখেই মন ভরে যাচ্ছে।’ উচ্ছ্বসিত ড্রাজিচও। এদিন ম্যাচে মাথা ফেটে যাওয়ার পরও হার মানেননি তিনি। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। ম্যাচ শেষে তাই সার্বিয়ান ফরোয়ার্ডকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন কোচ। মিক্সড জোনে ড্রাজিকের মন্তব্য, ‘প্রি সিজনটা ভালোভাবে হয়েছে। সেটাই এদিনের ম্যাচে প্রমাণিত। পুরো টিম ফিট। আইএসএলের আগে এই জয়টা খুব দরকার ছিল।’ পাশাপাশি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবেগে ভাসলেন অনিরুদ্ধ থাপা-মনবীর। অনিরুদ্ধের কথায়, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ডার্বি খেলা অবশ্যই কঠিন। তবে এসব নিয়ে ভাবিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানো। সেটা পেরেছি।’ একই সুর মনবীরের গলায়। তিনি বলেন, ‘মর্যাদার ম্যাচ খেলব না! এটা অসম্ভব! কোচকে বলেছিলাম, কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাঠে নামাতে। সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।’