Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সম্পত্তির লোভ! একটি বিজ্ঞাপনই খোঁজ দিল, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়

ঘটনাবহুল জীবন। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের চারপাশে কিছু না কিছু ঘটে চলেছে। বহু ঘটনা হারিয়ে যায় মুহূর্তের ভিড়ে। কোনও ঘটনা উঠে আসে শিরোনাম হয়ে। আর তার মধ্যে কিছু রেখে যায় দাগ। রক্তের দাগ। এমনই সাড়া ফেলে দেওয়া কয়েকটি ঘটনা ফিরে দেখল বর্তমান। সোহম করের কলমে।

সম্পত্তির লোভ! একটি বিজ্ঞাপনই খোঁজ দিল, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঘটনাবহুল জীবন। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের চারপাশে কিছু না কিছু ঘটে চলেছে। বহু ঘটনা হারিয়ে যায় মুহূর্তের ভিড়ে। কোনও ঘটনা উঠে আসে শিরোনাম হয়ে। আর তার মধ্যে কিছু রেখে যায় দাগ। রক্তের দাগ। এমনই সাড়া ফেলে দেওয়া কয়েকটি ঘটনা ফিরে দেখল বর্তমান। সোহম করের কলমে।

Advertisement

‘ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু/ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে’—শঙ্খ ঘোষ। 
বিশ্বনাথ দত্ত খুনের বছর তিনেক আগে একটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল—‘হান্ড্রেড ডেজ’। বলিউড থ্রিলার। বেশ তোলপাড় ফেলেছিল নয়ের দশকের গোড়ায়। রমাকে (মুনমুন সেন) খুন করে বাড়ির দেওয়ালের পিছনে গেঁথে দেওয়া হয়েছিল। তার উপর প্লাস্টার-প্যারিস। অভিনব ক্রাইম সিন রীতিমতো দাগ কেটেছিল আম জনতার মনে। রমার বোন দেবীর (মাধুরী দীক্ষিত) ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রখর ছিল এবং তিনি এমন সব ঘটনা দেখতে পেতেন বলে খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল রমার কঙ্কালের। বিশ্বনাথের তেমন কোনও ‘দ্রষ্টা’ ভাই বা বোন ছিল না। বরং ভাই অলোকনাথই ছিল তাঁর মৃত্যু-চিত্রনাট্যের লেখক। বিশ্বনাথ দত্তর মৃত্যু এবং ঠাকুর ঘরের দেওয়ালে তাঁর দেহ আবিষ্কারের নেপথ্যে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে একটি বিজ্ঞাপন। ওই আইনজীবীর দেওয়া বিজ্ঞাপন। 
আপাত নিরীহ সেই বিজ্ঞাপন চোখে পড়তেই টনক নড়ল অমরনাথ, সমরনাথের। অমরনাথ থাকতেন চন্দননগরে। সমরনাথ, আর অনুরাধা কলকাতাতেই। প্রথম বিজ্ঞাপনটা চোখে পড়ে অমরনাথের ছেলে অভিজিতের। ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি। সমরনাথকে ফোন করেন ব্যাঙ্কের আধিকারিক অমরনাথ। কথা হল অনুরাধার সঙ্গেও। সকলেই বুঝলেন, আপনভোলা বিশ্বনাথকে ভুল বুঝিয়েই এসব করেছে অলোক। ৫ মার্চ রাত দু’টো-আড়াইটে নাগাদ অমর-সমর দুই ভাই চললেন বিডন স্ট্রিটে। গভীর রাতে যাওয়ার কারণ? যদি অলোকের মর্নিং ডিউটি থাকে! দাদাদের দেখে অলোকের ঘুম লাটে উঠল। প্রথমেই প্রশ্ন, ‘উপরে ধাবুর (বিশ্বনাথের ডাক নাম) ঘরে গেলাম, কেউ একজন ভিতর থেকে বলল, বাদ মে আইয়েগা। ধাবু কোথায়?’ গল্প সাজানো শুরু করল কনস্টেবল মহাশয়। বারাসতের একটা ঠিকানা দিয়ে অলোক বলে দিল, ‘বলা হয়নি তোমাদের। ধাবু বারাসত চৌরাস্তার কাছে ভাড়া চলে গিয়েছে।’ চ্যাঁচামেচিতে একতলার ভাড়াটে আর দু’তিন তলার বন্ধ ঘর থেকেও লোকজন বেরিয়ে এসেছে। তারই মধ্যে এক ব্যক্তি সমরনাথকে বলে উঠলেন, ‘মেরা নাম নন্দলাল সিং। অলোকবাবু অউর বিশ্বনাথবাবু আপনা হিস্সা মুঝে বেচ দিয়া।’
দুই ভাইয়ের মাথায় তখন আগুন জ্বলছে। কিন্তু সম্পত্তি উদ্ধার পরে হবে। আগে ভাইটাকে খোঁজা যাক। বারাসত ছুটলেন দু’জন। ওই ঠিকানায় কেউ থাকে না। ৬ তারিখ সকালে বিডন স্ট্রিটে ফিরে এলেন অমরনাথ, তাঁর ছেলে অভিজিত্ ও সমরনাথ। এবার তাঁরা ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন’-এ। চাপের মুখে অলোক বলল, ‘ধাবুদাকে মেরে পুঁতে দিয়েছি।’ হাত-পা কাঁপছে অমর-সমরের। অলোক এটা করতে পারে? বিশ্বাস হচ্ছে না। বড়বাজার থানায় ফোন ঘোরালেন অভিজিত্। ততক্ষণে অলোককে বেধড়ক মারতে শুরু করেছেন অমর-সমর। বিশাল পুলিসবাহিনী নিয়ে এলেন বড়তলা থানার বড়বাবু। সমরনাথ বিধ্বস্ত। কেঁদে চলেছেন সমানে। ধীরে ধীরে পুলিসের সামনে সবটা বলা শুরু করল অলোক। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে প্রচুর দেনা হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি বেচা ছাড়া উপায় ছিল না। চক্রান্তে শামিল অলোকের স্ত্রী মমতা, শিবশঙ্কর ওরফে বাবু এবং শিবশঙ্করের ভগ্নীপতি মৃণাল দত্ত। এই মৃণালই সই করে বিশ্বনাথ সেজে। আর মমতা সাজে অনুরাধা। খদ্দেরও পাওয়া গেল। ষাট হাজার টাকা অ্যাডভান্স। অলোকের পরিকল্পনা ছিল, বাগুইআটিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে যাওয়ার। কিন্তু বিশ্বনাথ থাকলে বাড়ি বিক্রি হবে কীভাবে? তিনি তো রাজিই নন। উপায় একটাই সরিয়ে দিতে হবে। চিরতরে। (চলবে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ