Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্রোহী সদস্যদের ভোটাভুটিতেই ঘাসফুল পঞ্চায়েত প্রধানের হার

তৃণমূলের বিদ্রোহীদের সাহায্য করে ঘাসফুলের প্রধানকেই অপসারণ করল বিজেপি। এই প্রথম কোনো পঞ্চায়েতে পালাবদল প্রত্যক্ষ করল হুগলি।

বিদ্রোহী সদস্যদের ভোটাভুটিতেই  ঘাসফুল পঞ্চায়েত প্রধানের হার
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তৃণমূলের বিদ্রোহীদের সাহায্য করে ঘাসফুলের প্রধানকেই অপসারণ করল বিজেপি। এই প্রথম কোনো পঞ্চায়েতে পালাবদল প্রত্যক্ষ করল হুগলি। গত শুক্রবার হুগলির মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়েছে। সেখানে তৃণমূলের ন’জন সদস্যের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন বিজেপির ছ’জন সদস্য। ১৯ সদস্যের ওই পঞ্চায়েতে প্রধান সহ তিন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে একজন তৃণমূল সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল যে, পঞ্চায়েত দখল করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঝাঁপাবে বিজেপি। সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিল পদ্মপার্টি। তৃণমূলকে দিয়েই পঞ্চায়েত থেকে কাঁটা উপড়ে দিল বিজেপি।

Advertisement

তবে বিজেপি সরাসরি পঞ্চায়েতে যোগ দেবে, নাকি তৃণমূলকে সামনে রেখেই নিজেদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওই জল্পনার মুখ্য কারণ, প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হলেও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হচ্ছে না। দলের অন্দরমহল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েই তৃণমূলের বোর্ড চালানো হবে। তাতে একদিকে যেমন বোর্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে নিজেদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা যাবে, তেমনই প্রয়োজন হলে সমস্যার দায় তৃণমূলের ঘাড়েই চাপানো যাবে। এনিয়ে বিজেপি স্থানীয় মণ্ডলের নেতা তথা মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধান অনিয়মে যুক্ত ছিলেন। সেকারণে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থায় অংশ নিয়েছিলাম। মানুষ আমাদের বোর্ড দখলের জন্য যথেষ্ট সংখ্যা দেয়নি। তাই বোর্ড দখলের কথা এখনই ভাবছি না। তবে বোর্ডের কাজের দিকে আমাদের নজর থাকবে। তৃণমূলের অপসারিত প্রধান জয়শ্রী পাল বলেন, কোনো অনিয়ম পঞ্চায়েতে হয়নি। যাঁরা বোর্ডের অংশ ছিলেন, তাঁদেরই একাংশ ‘ভালো তৃণমূল’ সেজেছেন। বিজেপি আইনের পক্ষে হলে অনাস্থায় অনুপস্থিত থাকতে পারত।
হুগলিতে পুরসভাগুলি থেকে তৃণমূল নেতাদের লাগাতার পদত্যাগের পর ইঙ্গিত মিলেছিল, এবার পঞ্চায়েত থেকেও ইস্তফা দেবেন ঘাসফুলের সদস্যরা। কারণ, পঞ্চায়েতে গিয়ে কাজের নজরদারি সহ প্রভাব বিস্তারের কাজ শুরু করেছিলেন বিজেপি নেতারা। এরপরই জেলা সদর লাগোয়া তিনটি পঞ্চায়েতে পরপর অনাস্থা আনা হয়। মগরা ২ নম্বরের সঙ্গে আনাস্থা আনা হয়েছিল চন্দ্রহাটি-১ ও কোদালিয়া-২ পঞ্চায়েতে। এরমধ্যে ৭ আগস্ট মগরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। প্রধানকে অপসারণ করতে তৃণমূলের ন’জন সদস্যের সঙ্গে সরাসরি ভোট দেন বিজেপির ছয় সদস্য। প্রসঙ্গত, বিজেপির ছয় সদস্যের সমর্থন না থাকলে তৃণমূলের ন’জনের পক্ষে অনাস্থা পাশ করানো আইনগতভাবে সম্ভব ছিল না। এবার বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপি কী ভূমিকা নেয়, সেটাই দেখার। সেইসঙ্গে মগরা-২ পঞ্চায়েতের পালাবদলের ধারাবাহিকতা কত দূর ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ