Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

পিয়ং ইয়ংকে হারাবার পর জড়িয়ে ধরেছিল দাদা হাবিব

ফুটবলের মক্কা কলকাতা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই অন্য অনেকের মতো মহম্মদ আকবরকেও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে গড়ের মাঠ

পিয়ং ইয়ংকে হারাবার পর জড়িয়ে ধরেছিল দাদা হাবিব
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মহম্মদ আকবর: ফুটবলের মক্কা কলকাতা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই অন্য অনেকের মতো মহম্মদ আকবরকেও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে গড়ের মাঠ। বড় ম্যাচে ১৭ সেকেন্ডের গোল তো ময়দানি মিথ! শুনেছি, সেই রেকর্ড নিয়ে আজও চর্চা করেন ফুটবলপ্রেমীরা। কলকাতার তিন প্রধান মানেই আলাদা আবেগ। জিতলে মাথায় করে রাখেন সমর্থকরা। অন্যথায় জ্বলবে আগুন। ফুটবল কেরিয়ারে এমনই নানা স্মৃতির কোলাজ। সেরা ম্যাচ কোনটা? তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে ১৯৭৩ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। উত্তর কোরিয়ার পিয়ং ইয়ং সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে খেতাব জেতে ইস্ট বেঙ্গল। সুভাষ ভৌমিক ছাড়াও জোড়া লক্ষ্যভেদ এই অধমের। বড়ে মিঞা হাবিব সহজে প্রশংসা করার বান্দা নয়। সেই ম্যাচের পর দাদা জড়িয়ে ধরে আমায়। শিল্ড জয়ের আনন্দের চেয়েও আমার জীবনে যা বড় প্রাপ্তি। 

Advertisement

সেবার ইস্ট বেঙ্গলের কোচ প্রদীপদা। শিল্ডের প্রথম ম্যাচে সহজেই পরাস্ত হয় ইস্টার্ন রেল। এরপর মালয়েশিয়ার ক্লাব তেরেঙ্গানুকেও একই ব্যবধানে বশ মানায় ইস্ট বেঙ্গল। আমার জোড়া গোল ছাড়াও স্কোরশিটে নাম ছিল সুভাষ ভৌমিকের। সেমি-ফাইনালে প্রবল প্রতিপক্ষ মোহন বাগান। কিন্তু পিকে’র দলকে কে রুখবে? বিশেষ করে বুলডোজার সুভাষের সামনে তছনছ বিপক্ষ ডিফেন্স। ৩ গোলে জিতে ফাইনালে পৌঁছই আমরা। দাদা হাবিবের দু’গোল ছাড়াও জাল কাঁপিয়েছিল সেই ভৌমিক। বড় ম্যাচের বড় প্লেয়ার। এরপর ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। এত বছর পরেও সাজিয়ে রেখেছি মনের ডার্করুমে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩। ফুটবল জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। সামনে দুর্ধর্ষ পিয়ং ইয়ং। দেশের সম্মান রক্ষায় দায় ইস্ট বেঙ্গলের উপর। মাঠে নামার সময় দর্শকদের গর্জনে কানে তালা ধরার জোগাড়। গোলের পিছনে র‌্যামপার্টেও এক ইঞ্চি জায়গা নেই। মনে হচ্ছিল, গোল না পেলে জীবন বৃথা! উপরওয়ালা বোধহয় প্রার্থনা শুনতে পেয়েছিলেন। শুরুতেই আমার গোলে লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল। কিছুক্ষণ পর ব্যবধান বাড়ায় ভৌমিক। ১৫ মিনিটের ঝড়ে তখন কাঁপছে পিয়ং ইয়ং। ডানদিক থেকে গতির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সুভাষের মুভ চোখে ভাসে। ওর শট আছড়ে পড়ে জালে। দ্বিতীয়ার্ধে আমার দ্বিতীয় গোলের পর শুরু উৎসব। সবমিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে পিয়ং ইয়ংকে চূর্ণ করে মশালবাহিনী। ফেন্সিং টপকে মাঠে নেমে এসেছিলেন সমর্থকরা। কাঁটাতারের খোঁচায় পিঠ রক্তাক্ত। তাতে কি? প্রাণের ইস্ট বেঙ্গলের কাছে সবই যে তুচ্ছ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ