Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘুমন্ত নাতনিকে ধর্ষণে গ্রেফতার ‘অভিযোগকারী’ দাদু! ১৮ ঘণ্টার জেরায় তথ্য ফাঁস

১৮ ঘণ্টার নাটক। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না। ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় একেবারে ১৮০ ডিগ্রি উলটপুরাণ।

ঘুমন্ত নাতনিকে ধর্ষণে গ্রেফতার ‘অভিযোগকারী’ দাদু! ১৮ ঘণ্টার জেরায় তথ্য ফাঁস
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ১৮ ঘণ্টার নাটক। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না। ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় একেবারে ১৮০ ডিগ্রি উলটপুরাণ। নাতনিকে নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে— শনিবার চোখের জল ফেলতে ফেলতে অভিযোগ করেছিলেন দাদু। ঘটনার তদন্তে নামে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় শিশুর দিদা, মাসি, দাদু সহ স্টেশন চত্বরে বসবাসকারী প্রত্যেককে । কিন্তু, খটকা কিছুতেই কাটছিল না। টানা ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগকারী দাদুকেই গ্রেফতার করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি,  অভিযোগকারীই অভিযুক্ত। আর অভিযোগটা হল ধৃত প্রৌঢ়ের সাজানো ‘অ্যালিবাই’। 

Advertisement

শনিবার ভোররাতে তারকেশ্বরে স্টেশন চত্বর এলাকায় ঘুমোচ্ছিল চার বছরের এক শিশুকন্যা। তার বাবা-মা দু’জনেই মারা গিয়েছে। দিদা আর মাসির পাশেই শুয়েছিল সে। তিনজনেই মশারির ভিতরে। সকালে দিদা দেখতে পান, শিশুটি নেই। মশারির একাংশ কাটা। ঘটনা জানাজানি হতেই খোঁজ শুরু হয়। পাশের একটি নালার পাশে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় নির্যাতিতাকে। যৌনাঙ্গ থেকে তখনও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আচমকাই ঘটনাস্থলে হাজির হয় তার দাদু। চোখে জল। সরাসরি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। সেখান থেকে হাসপাতাল। প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর পর নাতনিকে নিয়েই তারকেশ্বর থানায় যান বছর পঞ্চাশের প্রৌঢ়। অভিযোগপত্রে টিপ সই দেন। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু, কোনও সন্দেহভাজনকেই চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। কোন সময়ে ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছিলেন না কেউই। কিন্তু, সেই তথ্য একেবারে ঠিক বলে দেন অভিযোগকারী দাদু। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে তা খানিকটা মিলে যায়। সেখানেই সন্দেহ হয় পুলিশের। 
এরপরেই দাদুকে তারকেশ্বর থানায় ডেকে জেরা করা হয়। ১৮ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে আসল অভিযুক্ত কে— ফাঁস হয়। পুলিশের কাছে দাদু স্বীকার করেন, তিনিই রাতের অন্ধকারে মশারি কেটে নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালান। রবিবার সিঙ্গুরে সাংবাদিক সম্মেলনে হুগলি জেলা পুলিশের সুপার কামনাশিস সেন জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়‌। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ১ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ, সোমবার তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে। চিকিৎসা চলছে শিশুটির।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ