Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মৃত’ বাবার সই জাল করে ১০ কোটির লেনদেন, ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাদার

বাবা মারা গিয়েছেন ২০২০ সালে। অথচ তাঁর নামে টাকা উঠে চলেছে চার বছর ধরে! মৃত ব্যক্তিই করেছেন শেয়ার কেনাবেচা!

‘মৃত’ বাবার সই জাল করে ১০ কোটির লেনদেন, ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাদার
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাবা মারা গিয়েছেন ২০২০ সালে। অথচ তাঁর নামে টাকা উঠে চলেছে চার বছর ধরে! মৃত ব্যক্তিই করেছেন শেয়ার কেনাবেচা! বাইরের কোনও প্রতারণা চক্র নয়, ছেলেরাই মৃত বাবার সই জাল করে টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এভাবে চার বছর ধরে তোলা টাকার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি! ওই ব্যক্তির পাঁচ ছেলে। বিষয়টি নজরে আসতেই বড় ছেলে নিউ আলিপুর থানায় তাঁর চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিস।

Advertisement

নিউ আলিপুরের বাসিন্দা তথা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী উমাশঙ্কর কাশেরা। তাঁদের পরিবারের একাধিক ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যের শহরে। ব্যবসার লাভের টাকায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করতেন উমাশঙ্কর। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি নিজেই দেখভাল করতেন তিনি। পরে পাঁচ ছেলেকেও এই কাজে নিযুক্ত করেন। তখন নতুন কোথাও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বা টাকা তুলতে চাইলে ছেলেরা তাঁর সই করিয়ে নিতেন। ২০২০ সালে কোভিডে মৃত্যু হয় গৃহকর্তার। ২০২২ সালে বড় ছেলে বাবার অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে দেখেন, বহু টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরই ওই টাকা তোলা শুরু হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রয়াত বাবার সই জাল করেই কেউ বা কারা ওই টাকা তুলে নিয়েছে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, পরিচিতদের অ্যাকাউন্টেই গিয়েছে টাকা। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদেরকেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হয় বড় ছেলের। সূত্রের খবর, প্রথমেই তিনি পুলিসের কাছে এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেননি। ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনও সমাধান তো হয়ইনি, উল্টে তিনি জানতে পারেন, আরও টাকা উঠে যাচ্ছে একইভাবে। তিনি তখন আরও বেশ কিছু লেনদেন সংক্রান্ত নথি জোগাড় করেন। সেসব খতিয়ে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ভাইরাই বাবার সই নকল করে টাকা তুলে নিচ্ছে। টানা চার বছর ধরে চলছে এই কায়দায় টাকা তোলা। তারপরই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। 
তদন্তে নেমে পুলিস ব্যাঙ্ক ও শেয়ার বাজারে লেনদেনের নথি সংগ্রহ করে। দেখা যায়, মৃত্যুর পরেও উমাশঙ্কর সই করে টাকা তুলেছেন! সেই সই ও বিভিন্ন সরকারি জায়গায় তাঁর যে সই রয়েছে—দু’টি নমুনাই পাঠানো হয় পরীক্ষা করে দেখার জন্য। বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখে জানিয়ে দেন, দু’টির মধ্যে কোনও মিল নেই। ফলে জালিয়াতি নিয়ে নিশ্চিত হয়ে যান তদন্তকারীরা। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সই যাচাই না করেই কীভাবে টাকা তোলার অনুমতি দিল? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তাই এই কারবারে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ