নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জমি বিবাদের জেরে ভাইকে খুনের অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার মকরামপুর এলাকায়। মৃতের নাম আশরাফ সর্দার (৫০)। এই ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত দাদা কালু সর্দার। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে চায়ের দোকানে আড্ডা মারতে গিয়েছিলেন আশরাফ। অভিযোগ, তখনই পিছন থেকে অতর্কিতে হামলা চালায় তাঁর দাদা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। আশরাফের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। গ্রামবাসীরাই আহত আশরাফকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। বাবা দুই ছেলের কাউকেই জমি দান করেননি। উল্টে আশরাফের ছেলে আসান সর্দারকে একটি জমি লিখে দিয়েছিলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কালু। আসানের অভিযোগ, জমি বিবাদের জেরে জেঠু একাধিকবার দাদুকে মারধর করেছে। এমনকী, বাড়িতে এসে খুনের হুমকিও দিয়েছিল। কালু এলাকায় বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, প্রথমে বেআইনি মদ বিক্রি করত সে, পরে গাঁজার ব্যবসা শুরু করেছিল। সময় পেলে গাড়ির খালাসির কাজও করত। শুক্রবারের রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আশরাফ। সেই সময় কালু এসে প্রথমে ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় আশরাফ পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় একটি বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাঁর। তাতে পড়ে যান আশরাফ। তখন কাটারি হাতে ছুটে গিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় কালু। ওই কাটারি দিয়েই ভাইয়ের গলা কাটে সে। তাঁর হাত ও হাতের আঙুল কাটারও চেষ্টা করে দাদা। আশরাফের আর্তনাদ শুনে ওই দোকানে থাকা লোকজন ছুটে গেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপর তাঁরাই রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান আশরাফকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিস অভিযুক্তের খোঁজ করছে।