নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বারাকপুর: মাহেশ থেকে গুপ্তিপাড়া, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোমবার মহাসমারোহে পালিত হল জগৎপ্রভুর স্নানযাত্রা। প্রবল রোদের তাপ উপেক্ষা করে হাজার হাজার ভক্তসমাগম হয়েছিল মাহেশের স্নানপিঁড়ি মাঠে। ৬৩০ বছরে এবার পা রেখেছে ঐহিত্যবাহী মাহেশের জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। ভিড়ের দাপটে অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল জিটি রোড। বিপুল ভক্তসমাগম দেখেছে হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ মঠও। সেখানকার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা এবার ২৮৬ বর্ষে পড়েছে। দুটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির ছাড়াও হুগলির নানা প্রান্তে সোমবার জগন্নাথদেবের পুণ্যস্নান উৎসবের আদলে পালিত হয়েছে। এদিকে, এদিন স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনে পরমহংসদেবের পাদুকা আনা হয়েছিল। তা নিয়ে বিশেষ পুজোপাঠে অংশ নিতে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়েছিল।
জগৎপ্রভুর লীলাপ্রচারকরা জানিয়েছেন, স্নানযাত্রার পরেই জগৎপ্রভুর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আজ, মঙ্গলবার জগৎপ্রভুর জ্বর আসবে। সে-কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই তাঁর চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জ্বর শরীর নিয়ে জগন্নাথদেব মন্দিরের গর্ভগৃহে লেপমুড়ি দিয়ে থাকেন। বৈদ্যের তত্ত্বাবধানে চলে চিকিৎসা। তাঁকে পাচন খাওয়াতে হয়। আগামী ১৩ জুলাই মাহেশের জগৎপ্রভুর জ্বর ছাড়বে। তখন পালিত হবে নবযৌবন উৎসব। তারপর তিনি মুখের স্বাদ ফেরাতে মাসির বাড়ি যাবেন। সেটিই পুণ্যরথযাত্রা। এবার তিথি অনুসারে ১৬ জুলাই সেই রথযাত্রা হবে, যা নিয়ে এদিন থেকেই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।
সোমবার সকাল ৭টায় হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথদেবকে স্নানপিঁড়ি মাঠে আনা হয়েছিল। ১০৮ পুণ্যকলসের জলে জগৎপ্রভুকে স্নান করানো হয়। ৮টা ৫৫ মিনিটে মহাঅভিষেক পালিত হয়। ঘি, মধুসহ উপকরণে সেই অভিষেক পর্ব হয়। ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল, ২ মন দুধে পুণ্যস্নান করেন জগন্নাথ। স্নানপিঁড়ির মাঠ তখন ভিড়ে থইথই। গতবছর থেকেই ভিন্নমাত্রা নিতে শুরু করেছিল মাহেশের মন্দিরের উৎসব। প্রথমবার মন্দিরের চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছিল নীলচক্র। এবারের উৎসবেও তাই ছিল বিপুল ভক্তসমাগম। স্নানপর্বে বারবার ‘জয় জগন্নাথ’ বোলে মুখরিত হয়েছে আকাশবাতাস। মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, স্নানযাত্রার মূল আকর্ষণ বরাবরই জগৎপ্রভুর অভিষেক। এবারও তা বিপুল ভক্তসমাগমে সম্পন্ন হয়েছে। আপাতত জগৎপ্রভুর জ্বর আসা এবং চিকিৎসা নিয়ে আমাদের মূল ব্যস্ততা। তার মাঝেই রথযাত্রার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যাবে। এবার বহু বিশিষ্ট অতিথি আসবেন। আমরা আশা করছি, জগৎপ্রভুর রথযাত্রার শুভসূচনা করতে উপস্থিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
হুগলিতে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ঐতিহ্যবাহী। মাহেশের রথযাত্রা স্থান পেয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে। রামকৃষ্ণ পরমহংসের পদধূলি পড়েছিল মাহেশে। গুপ্তিপাড়ার মঠের ঐতিহ্যও অমলিন। আবার, কালের নিয়মে পুরাতন নতুন আরো কিছু রথযাত্রা হুগলির চুঁচুড়া, চন্দননগরসহ নানা জনপদে পালিত হয়। সর্বত্রই এদিন স্নানযাত্রা বিপুল সমারোহে আয়োজিত হয়েছে। সঙ্গে তৎপরতা শুরু হয়েছে রথযাত্রারও।