সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: আজকাল নেতাদের বাড়ির বাইরে হেঁটে চলতে দেখাই যায় না। তাঁদের অধিকাংশের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা প্রায়ই চোখে পড়ে। কিন্তু তাঁদের থেকে একেবারেই আলাদা জীবনযাপন করছেন ময়নাগুড়ি ব্লকের খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪২ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য অতীন রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়ে এখন তিনি জনপ্রতিনিধি। তাঁর কথায়, ভোটে জিতে ঘরে বসে থাকলে হবে না। মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। জনসংযোগ করতে হবে। তাই দোকান বন্ধ করে দিয়ে টোটো কিনেছি। টোটো চালিয়ে সংসার যেমন চালাচ্ছি, তেমনই জনসংযোগ হচ্ছে।
ময়নাগুড়ি হাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী নিয়ে যান পঞ্চায়েত সদস্য অতীন। তাঁর পরনে থাকে সাধারণ জামা কাপড়। পায়ে থাকে হাওয়াই চপ্পল। মানুষের প্রয়োজনে তিনি রাতেও টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। অসুস্থ ব্যক্তিকে টোটোয় করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। অ্যান্ড্রয়েড নয়, বোতাম ফোন ব্যবহার করেন। তাঁর এমন সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য তাঁকে এলাকার সকলেই ভালবাসেন। পরিচিতিও তাঁর আগের থেকে বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপি রায় বলেন, অতীন রায় সচ্ছ্বল পরিবারের নন। পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে এলাকায় উনি যথেষ্ট কাজ করছেন। কারও সমস্যার কথা শুনলে চলে আসেন। টোটো নিয়ে দিনভর যাত্রী পরিষেবা দেন। দেখা হলেই কথা বলেন। ওঁর মিশুখে স্বভাবের জন্য সকলেই পছন্দ করেন।
পঞ্চায়েত সদস্য অতীন বলেন, আমি আমার দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করি। মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছি। তাই তাঁদের আপদে-বিপদে দৌড়ে যাই। টোটো চালিয়ে সংসার চালাই। জনসংযোগও করি। স্থানীয় কেউ টোটোয় চাপলে তাঁর বাড়ির পাশের সমস্যার কথা শুনি।
রাস্তাঘাট, নিকাশি নালা, পথবাতি, স্কুলের পরিকাঠামো ঠিকঠাক আছে কি না, জানার চেষ্টা করি। উপর মহলে জানিয়ে সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিই। আগে বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ছোট দোকান ছিল। সেটা বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ টোটো চালালে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার প্রচুর লোকের সঙ্গে দেখা হয়। মতবিনিময় হয়। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে এসব বিশাল পাওনা।