Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাড়ির ধাক্কায় ট্রাফিক পুলিস কর্মীদের ‘মহেশ’ ভোলার মৃত্যু, ঠাঁই কবরে

গাড়ির ধাক্কায় ট্রাফিক পুলিস কর্মীদের ‘মহেশ’ ভোলার মৃত্যু, ঠাঁই কবরে
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ‘ঘণ্টা দুয়ের মধ্যে সংবাদ পাইয়া গ্রামান্তের মুচির দল আসিয়া জুটিল, তাহারা বাঁশে বাঁধিয়া মহেশকে ভাগাড়ে লইয়া চলিল...।’
Advertisement
রানাঘাটের আনুলিয়া বাজারের ভোলা যেন শরৎচন্দ্রের মহেশ। গফুরের মতোই ভোলাকে লালন-পালন করেছিলেন পুলিস ও ট্রাফিক পুলিসের কর্মীরা। তার খাওয়া থেকে শুরু করে রাতের বেলায় নিশ্চিন্ত ঘুম—সবকিছুই দেখভাল করতেন তাঁরা। ঠিক যেভাবে মহেশের প্রতি যত্নশীল ছিলেন গফুর। গল্পের শেষে পার্থক্য শুধু একটাই। মুচিদের হাতে চকচকে ছুরি দেখে মহেশের শেষ পরিণতি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন গফুর। বন্ধ করে দিয়েছিলেন চোখ। আর ভোলার গল্পে মুচিদের কোনও উপস্থিতি নেই। পুলিসকর্মীরা নিজেরাই কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে সমাধিস্থ করলেন ভালোবাসার ভোলাকে। কোনওপ্রকার ত্রুটি রাখলেন না রীতি পালনেও।  
রানাঘাট শহরের দক্ষিণপ্রান্তে অনুলিয়া বাজার থেকে কোর্ট মোড়। ব্যস্ত এলাকায় দৈনন্দিন দেখা মিলত তার। শান্ত স্বভাব। গুঁতোগুঁতি নেই। জুলুম করে খাওয়া নেই। কখনও বাজারে, কখনও রাস্তার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত সে। কুচকুচে কালো। ভালোবেসে এলাকার লোকজন নাম দিয়েছিলেন ভোলা। ভবঘুরে এই ভোলার সঙ্গে অজান্তেই বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল পুলিসেরও। কোর্ট মোড়ে ট্রাফিক কর্মীদের সঙ্গে ছিল তার ওঠাবসা। খিদে পেলে ঘুর ঘুর করতে আসা। অবলা জীবের মুখের ভাষা বুঝতে পারতেন কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা। চেয়েচিন্তে খাওয়াতেন তাঁরা। খর বৈশাখে কিংবা দুর্যোগে—কোর্ট মোড়ে জাতীয় সড়কের নিচে ছাউনিতে পুলিসকর্মীদের সঙ্গেই ঠাঁই হতো ভোলার। বেশ কিছুদিন যাবৎ বয়সের ভারে ভোলার হাঁটতে চলতে খানিক অসুবিধা হচ্ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় সে ভুল করে উঠে পড়ে জাতীয় সড়কে। সেই সময় দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা কলকাতাগামী একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা মারে। পথেই লুটিয়ে পড়ে ভোলা। ছুটে আসেন কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ডের পদস্থ কর্তা ও অন্যান্য পুলিসকর্মীরা। গল্পের মহেশ ঠিক যেভাবে মৃত্যুর আগে শেষবার মুখ তুলে গফুরকে দেখেছিল, ভোলাও একইভাবে শেষবারের মতো আশেপাশের চেনা উর্দিধারীদের দেখে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। মহেশের মতো ভোলার অবশ্য ভাগাড়ে ঠাঁই হয়নি। রজনীগন্ধা এবং গাঁদার মালায় শেষবারের মতো সাজিয়ে তোলা হয় মৃত ভোলাকে। নিয়ে যাওয়া হয় পায়রাডাঙ্গায়। পুলিসকর্মীরা ছাড়াও শেষযাত্রায় শামিল ছিলেন বহু মানুষ। জাতীয় সড়কের ধারে ভোলাকে কবরস্থ করা হয়। কবরের উপর জ্বালিয়ে দেওয়া হয় খান তিরিশেক মোমবাতি। রাখা হয় কয়েক জোড়া মালা।
সম্পর্কিত সংবাদ