নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মেমারি থানার মেরুয়া গ্রামে গোরু চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। পুলিস ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মৃতের পরিচয় রবিবার রাত পর্যন্ত পুলিস জানতে পারেনি। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, কয়েক দিন ধরেই গেরু চোরদের উপদ্রব বেড়েছিল। কয়েকটি গোরু চুরি হয়। আতঙ্কে তাঁরা শিকল দিয়ে গোরু বেঁধে রাখছিলেন। এলাকার বাসিন্দারা রাতে সজাগ ছিলেন। শনিবার রাতে দুষ্কৃতীরা ওই গ্রামের এক ব্যক্তির গোয়ালঘরে ঢোকে। দুষ্কৃতী দলে চার থেকে পাঁচজন ছিল। গোরু বের করার সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পান। তিনি চিৎকার করে গ্রামের লোকজনকে ডাকেন। তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। তাদের মধ্যে একজন ধরা পড়ে যায়। উত্তেজিত গ্রামের বাসিন্দারা তাকে মারধর শুরু করে। তার পরিচয় জানার গ্রামবাসীরা চেষ্টা করে। কিন্তু, সে কোনও কিছুই বলতে রাজি ছিল না। তাতে গ্রামের বাসিন্দারা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ফের তাকে মারধর শুরু করে। মেমারি থানার পুলিস খবর পেয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিস জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। মৃতের পরিচয় জানার জন্য বিভিন্ন থানায় তার ছবি পাঠানো হয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া কখনই উচিত নয়।
Advertisement
গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা রাত জাগছিলেন। গ্রামে বাইরের কোনও লোক ঢুকলেই তাঁরা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতেন। স্থানীয়দের দাবি, গোরু চুরির বিষয়টি পুলিসকে আগে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, তারপরেও চোরের দৌরাত্ম্য কমেনি। কয়েক দিন আগেও কয়েকজন দুষ্কৃতী অন্য একটি গ্রামে ঢোকে। স্থানীয়রা তাদের তাড়া করতেই চম্পট দেয়। শনিবার রাতে দুষ্কৃতী দলটি গ্রামে ঢুকলেও প্রথমে বাসিন্দারা টের পাননি। পরে বাড়ির মালিক গোয়ালঘর থেকে শব্দ পেয়ে বেরিয়ে আসেন। পুলিসের অনুমান, দুষ্কৃতী দলটি বাইরে থেকে এসেছিল। তাদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। তারা এলাকায় কোথাও ডেরা বেঁধেছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



