Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুড়ের বাজার চাঙ্গা না হওয়ায় চাহিদা নেই ঝুড়িরও, হতাশ কারিগররা

গুড়ের বাজার চাঙ্গা না হওয়ায় চাহিদা নেই ঝুড়িরও, হতাশ কারিগররা
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: গুড়ের মরশুমে চাহিদা বাড়ে বাঁশের ঝুড়ির। কিন্তু জমিয়ে ঠান্ডা না পড়ায় গুড়ের বাজার মন্দা। তার জেরে বাঁশের ঝুড়ি বিক্রিতেও ভাটা। গোটা কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ২০০-র বেশি পরিবার ঝুড়ি তৈরি করছে। ‘যাওয়া বাঁশ’-এর  তৈরি এই ঝুড়ি কৃষ্ণগঞ্জের চৌগাছা, আদিত্যপুর, চন্দননগর গ্রামে তৈরি হয়। খেজুর গুড়ের মরশুম এলেই ঝুড়ি তৈরির কারিগররা কাজে নেমে পড়েন। সারা বছর মাঠে কেউ জনমজুর, কেউ ভাগ চাষ করার পাশাপাশি গুড় তৈরি করে বাড়তি কিছু আয় করেন। খেজুর গুড়ের ভাঁড় রাখার জন্য মূলত ৫টি সাইজের ঝুড়ি খুব কাজে লাগে। বাজারে যে ধরনের ঝুড়ি দেখা যায় তার থেকে খেজুর গুড়ের ভাঁড় রাখার ঝুড়ি একটু অন্য ধরনের হয়। এই ঝুড়ি মাটি থেকে এক ফুটের বেশি উঁচু হয়। বেতও শক্ত হতে হয়। যাতে মাটির ভাঁড়ে থাকা খেজুর গুড়ের ক্ষতি না হয়। স্থানীয় মানুষের দাবি, ঝুড়ির মাপের সঙ্গে গুড়ের ভাঁড় আনা নেওয়ার সংখ্যা নির্ভর করে। জানা যায়, খেজুর গুড় বওয়ার জন্য ‘যাওয়া বাঁশ’-এর ঝুড়ি কৃষ্ণগঞ্জের চৌগাছা, আদিত্যপুর, চন্দননগরে তৈরি হয়। এই ঝুড়ির ৫ রকম সাইজের হয়। ছোট ঝুড়িতে ৩টে ভাঁড় ধরে। পরের সাইজে ৫টি ভাঁড় রাখা যায়। আরও বড় সাইজের ঝুড়িতে ১১টি,  তার পরের সাইজের ঝুড়িতে ১৪টি ভাঁড় ধরে। সব থেকে বড় ঝুড়িতে ১৮-১৯টি ভাঁড় ধরে যায়। তবে মাঝারি সাইজের ঝুড়ির চল সব থেকে বেশি। এই ঝুড়িতে ১০-১১টি ভাঁড় ধরে। এই ঝুড়ি ১২০ থেজে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই  ঝুড়ি করতে ৬০ টাকা খরচ পড়ে যায়। ১টি  বাঁশে মাঝারি সাইজের ৫-৬টি ঝুড়ি হয়। বর্তমানে ‘যাওয়া বাঁশ’-এর দাম ১৫০ টাকার মধ্যে। ১ জন ঝুড়ির কারিগর দিনে ৫টি ঝুড়ি তৈরি করতে পারেন। এই কাজে  পরিবারের সকলে মিলে করেন। তাই এক একটি পরিবার দিনে ১৫-২০টি ঝুড়ি তৈরি করতে পারে। কারিগররা সকলেই বংশ  পরম্পরায় ঝুড়ি তৈরি করে আসছেন। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের স্বর্ণখালি, দুর্গাপুর, জয়ঘাটা সহ বেশ  কয়েকটি  জায়গায় এই ঝুড়ি তৈরি করা হয়। কৃষ্ণগঞ্জের আদিত্যপুরে ১৩০টি পরিবার  ঝুড়ি তৈরি করে। দাসপাড়ায় খেজুর গুড়ের জন্য ঝুড়ি তৈরি করেন ঝুমা দাস, বুড়ো দাস, রবি দাসরা। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ