Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিচু ওয়ার্ডে জমা জলের সমীক্ষায় এবার জিপিএস

নিচু ওয়ার্ডে জমা জলের সমীক্ষায় এবার জিপিএস
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: প্রতিবছর বর্ষার সময় আলিপুরদুয়ার শহরের নিচু এলাকায় বৃষ্টির জল জমে। একইভাবে শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও জল জমে থাকে। এই জলবন্দি থেকে বাসিন্দাদের মুক্তি দিতে সেচদপ্তরের সমীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে হেঁটে হেঁটে এই সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে জিপিএস পদ্ধতিতে সমীক্ষা হবে। সমীক্ষা শেষ হলে ভবিষ্যতে এলাকাগুলিতে যাতে জল না জমে তার মোকাবিলায় পুরোদমে কাজ শুরু হবে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে আসেন সেচমন্ত্রী। সার্কিট হাউসে সেচমন্ত্রী জানান, আলিপুরদুয়ার জেলা শহর ও লাগোয়া কয়েকটি এলাকায় জল জমে। তারজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জিপিএস পদ্ধতিতে সমীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সমীক্ষার কাজ শেষ হলেই জল যাতে না জমে তারজন্য কাজে ঝাঁপানো হবে। 
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজের সমীক্ষায় গত মাসের শেষে সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্বের ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক আলিপুরদুয়ারে আসেন। বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল, দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের আধিকারিক ও জেলা প্রশাসনের অফিসারদের নিয়ে কৃষ্ণেন্দুবাবু হেঁটে প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষা করেন। 
এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের সমীক্ষা হবে জিপিএস পদ্ধতিতে। তবে সেচদপ্তর সূত্রে খবর, জিপিএস পদ্ধতিতে এই সমীক্ষার কাজ শুরু হতে পারে শীত মরশুমে। ভরা বর্ষায় জিপিএস পদ্ধতিতে সমীক্ষার কাজে সমস্যা হতে পারে। আলিপুরদুয়ারের ৫, ৮, ১৫, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড নিচু ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত। শহরের একপাশে কালজানি নদী ও অন্যপাশে নোনাই নদী। এরমধ্যে কালজানির নদীবক্ষ শহর থেকে উঁচুতে। নোনাই আবার নিচুতে। নদীবক্ষ উঁচু হওয়ায় কালজানির স্লুইস গেট দিয়ে শহরের জমা জল নদীতে গিয়ে পড়ে না। অন্যদিকে, শহর লাগোয়া শোভাগঞ্জ, চ্যাংপাড়া, চাপরেরপার ও নোনাইপাড় এই পঞ্চায়েত এলাকাগুলি নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত। নিচু হওয়ার কারণে শহর ও শহর লাগোয়া এই এলাকাগুলি অল্প বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই জল টানা তিন-চার দিন ধরে জমে থাকে। ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। প্রতি বর্ষায় জমা জলে বাসিন্দাদের এই সমস্যার কথা সম্প্রতি শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান সুমন কাঞ্জিলাল। তারপরেই সেচদপ্তরের এই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। 
সেচদপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কেশব রায় বলেন, শহর ও শহর লাগোয়া নিচু এলাকাগুলির ড্রেনের ঢাল কোন দিকে, কোথায় নিচু ও কোথায় উঁচু জিপিএস পদ্ধতির সমীক্ষাতে সেটাই খতিয়ে দেখা হবে। 
এদিকে, সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এদিন আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারে শিসামারা নদীর বাঁধ খতিয়ে দেখেন। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল, প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি স্নিগ্ধা শৈব, সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ