নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ওড়িশার সীমানা ঘেঁষা ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের চেকপোস্ট এলাকায় ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছেমার্কেট কমপ্লেক্স। আগামী তিনমাসের মধ্যে সেটি চালু হবে। সারিয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় আরও একটি মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে। এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যাবসায়ীরা এই কমপ্লেক্সে লিজে ঘর পাবেন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামজেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ঝাড়গ্রাম শহর।রয়েছে বাজার,হাট, বড় বড় শপিং মল। এবার জেলা প্রশাসন নজর দিচ্ছেগোপীবল্লভপুরের দিকে। গোপীবল্লভপুরে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশার উপর গোপীবল্লভপুরের অর্থনীতি অনেকটাইনির্ভরশীল। সীমানা লাগোয়া ওড়িশার বহু মানুষ গোপীবল্লভপুরে বাজার করতে আসেন।স্থানীয় সব্জি প্রতিদিন ওড়িশায় পৌঁছয়। তবে গত একদশকে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্য আরও বেড়েছে। চেকপোস্ট এলাকার মার্কেট কমপ্লেক্সে ৬টি বড় হলঘর রয়েছে।সেখানে ছোট ছোট দুশো স্টল লিজ দেওয়া হবে। জেলার মার্কেটিং দপ্তরের উদ্যোগে এই বাণিজ্য কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে।পঞ্চায়েত সমিতির তত্ত্বাবধানে সারিয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে।এই গ্ৰামীণ এলাকাগুলোতে সপ্তাহে দু'দিন হাট বসে। মার্কেট চালু হলে প্রতিদিন বেচাকেনা সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্টল লিজ দেওয়া হবে। স্থানীয় আগ্ৰহী যুবক যুবতীদেরঅগ্ৰাধিকার দেওয়া হবে। গোপীবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হেমন্ত ঘোষ বলেন,ঝাড়গ্রামের সব্জির ভাণ্ডার গোপীবল্লভপুর। নদীর উর্বর মাটিতে সারাবছর ধান ছাড়াও সব্জিচাষ হয়।স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যার বেশিরভাগই যায় ঝাড়গ্রাম শহর ও ওড়িশায়।আগে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো ছিল না। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি গ্ৰামীণ রাস্তারও উন্নতি হয়েছে।যারজেরেউৎপাদিত ধান,সব্জি সহজে বাজারে আসতে পারছে। এলাকার বাইরেও উৎপাদিত ফসল নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। পার্শ্ববর্তীরাজ্যের মানুষ এখানে বাজার হাট করতে আসেন। উৎপাদিত সব্জির বড় অংশ ওড়িশায় যায়। মার্কেট কমপ্লেক্সগুলো চালু হয়ে গেলে সংগঠিতভাবে আরও ভালো ব্যবসা বাণিজ্য হবে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভক্তদের অন্যতম তীর্থস্থান গোপীবল্লভপুর। এখানেই রয়েছে গোবিন্দজির মন্দির। মন্দিরটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। তীর্থযাত্রী বাড়লে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়বে। সার্বিকভাবে এই এলাকার আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে। সারিয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুকুমার দাস বলেন,আমাদের এই এলাকায় সপ্তাহে দু'দিন হাট বসে। মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হলে সাতদিনই কেনাবেচা হবে। এলাকার চাষি, সব্জি বিক্রেতারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। পাশের রাজ্যের দূরত্ব মাত্র ছ’ কিমি। ওড়িশা থেকে পাইকাররা এখানে এসে সব্জি কিনে নিয়ে যায়। জেলা প্রশাসন কৃষি বাণিজ্যের প্রসারে নানাপরিকাঠামো গড়ে তুলছে।এলাকার অর্থনীতির বদল ঘটছে। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের বিডিও শ্যামসুন্দর মিশ্র এদিন বলেন,গোপীবল্লভপুরচেক পোস্ট সংলগ্ন মার্কেট কমপ্লেক্সটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করে দেওয়া হবে। আমরা আশাবাদী, সামনের দিনে গোপীবল্লভপুর এই জেলার অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠবে।



