চেন্নাই: আজ ৭ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল টিভিকে সুপ্রিমো বিজয়ের। বুধবার কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার পরই চেন্নাইয়ে লোকভবনে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন থালাপতি। তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের আর্জি জানান তিনি। কিন্তু জানা গিয়েছে, বিজয়ের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রাজ্যপাল। তাই সরকার গড়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে এবার সংখ্যার সমীকরণ নিয়ে খেলা শুরু হয়েছে। মধ্যমণি সুপারস্টার বিজয়ের দল টিভিকের ঝুলিতে রয়েছে ১০৮টি আসন। বিজয়ের জেতা দু’টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়লে সংখ্যাটা হচ্ছে ১০৭। ম্যাজিক ফিগার ১১৮। তাই দরকার আরও ১১টি আসন। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পাঁচটি আসন যুক্ত হলে মোট আসন সংখ্যা হচ্ছে ১১২টি। সরকার গড়তে আরও ছ’টি আসন দরকার। আর ঠিক এখানেই সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। যদিও টিভিকের একাংশের অভিযোগ, ইচ্ছে করেই রাজ্যপাল এই খেলা খেলছেন। অতিরিক্ত সময় নিয়ে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের পক্ষে কারা কারা এগিয়ে আসবে, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বাম ও আইইউএমএল। সূত্রের খবর, ডিএমকে-র শরিক দল ভিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে টিভিকে। তবে এখনও নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি ভিসিকে। এরইমাঝে এআইএডিএমকে-তে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। শোনা যাচ্ছে, বিজয়কে সমর্থন জানাতে ৩০ জনের বেশি বিধায়ক এআইএডিএমকে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন।
বুধবার তামিলভূমে নয়া সমীকরণ তৈরি হল। পুরানো বন্ধু স্ট্যালিনকে ছেড়ে বিজয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে হাত শিবির। তামিলনাড়ুর গদি থেকে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দূরে রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে কংগ্রেস সূত্রে দাবি। বুধবার পানাইয়ুরে টিভিকের সদর দপ্তরে বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস বিধায়কদের প্রতিনিধি দল। সেখানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও হয়। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছে ডিএমকে। একসময়ের সঙ্গীকে বিশ্বাসঘাতক বলে তোপ দেগেছে স্ট্যালিনের দল। এনিয়ে ডিএমকে-র মুখপাত্র সারাভানন আন্নাদুরাই এক্স হ্যান্ডলে জানান, যে হাতটি একসময় হাত মিলিয়েছিল, সে-ই পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। সমস্ত বিশ্বাস চূর্ণ হয়ে গিয়েছে। যদিও ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝির গলায় ভিন্ন সুর। তাঁর বক্তব্য, শরিক দল কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। এনিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার পালটা জবাব, একে পিঠে ছুরি মারা বলে না। যদি একই মানসিকতার দল সরকার গঠন করে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? ডিএমকে-র এই দুঃসময়ে এদিন স্ট্যালিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সুপারস্টার রজনীকান্ত।