নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত কি মিটতে চলেছে? দু-পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? এই প্রশ্ন উঠে এল অন্তত বিধানসভার অলিন্দ থেকে। বিশেষ করে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। রাজ্য বাজেট ২ ফেব্রুয়ারি। বিধানসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এই অধিবেশন।
সাধারণত নতুন বছরের প্রথম অধিবেশন রাজ্যপালের ভাষণ দিয়েই শুরু হয়। ব্যতিক্রম ঘটেছিল গতবছর। রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই ওই অধিবেশন শুরু হয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে রাজভবনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত সামনে আসে। এও দেখা গিয়েছে, রাজ্যপাল প্রকাশ্যেই রাজ্য সরকারের একাধিক কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি। তৃণমূল নেতারাও পালটা আঙুল তোলেন রাজভবনের দিকে। তৃণমূল অভিযোগ করে, রাজভবনকে বিজেপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছে। পাশাপাশি বিলে সম্মতিপ্রদান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজ্যের সঙ্গে রাজভবনের মতপার্থক্য প্রকট হয়। বিধানসভায় পাস হওয়া একাধিক বিল দীর্ঘদিন রাজভবনে পড়ে থাকারও অভিযোগ তুলেছে সরকার পক্ষ। রাজ্য-রাজভবনের ‘ঠান্ডা লড়াই’ একাধিকবার খবরের শিরোনাম দখল করে।
কিন্তু এবছর রাজ্য-রাজভবন সম্পর্ক মসৃণ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ২ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১২টায় বিধানসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা রাজ্যপালের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন তিনি সম্মতি দিলে ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর ভাষণের পরই রাজ্য বাজেট পেশ হবে।’এখন দেখার রাজ্যপাল বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে আসেন কি না। আরো নজর থাকবে আনন্দ বোসের বক্তব্যে রাজ্য সরকার সম্পর্কে কোন কোন বিষয় উল্লেখিত হয়।
বাজেট অধিবেশন চলবে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এসআইআর ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। শুনানি ঘিরে বাংলার ভোটারদের হয়রানির দিকটি অধিবেশনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে চলেছে। অনুমান রাজনৈতিক মহলের।