Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমাবর্তনে এলেন না রাজ্যপাল, সম্মানিত ইসরোর চেয়ারম্যান

অপারেশন ‘সিন্দুরে’ বড় ভূমিকা নিয়েছিল ইসরো। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে হলভর্তি ছাত্রছাত্রীদের সামনে সেই কথা তুলে ধরছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান ডক্টর ভি নারায়ণন।

সমাবর্তনে এলেন না রাজ্যপাল, সম্মানিত ইসরোর চেয়ারম্যান
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অপারেশন ‘সিন্দুরে’ বড় ভূমিকা নিয়েছিল ইসরো। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে হলভর্তি ছাত্রছাত্রীদের সামনে সেই কথা তুলে ধরছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান ডক্টর ভি নারায়ণন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসরোর বিভিন্ন সাফল্যর কথা তুলে ধরেন। অপারেশন সিন্দুরের প্রসঙ্গ উঠতেই করতালির ঝড় ওঠে। এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছিল। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের এদিন উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে, তিনি আসেননি। কিন্তু তারপরও এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চ ছিল তারকাখচিত। ইসরোর চেয়ারম্যান ছাড়াও পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রফেসর পদ্মনাভন বলরাম, বিশিষ্ট চিকিৎসক শ্যামাসিস বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের ডিএসসি সম্মান প্রদান করা হয়। আরএক বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবীপ্রসাদ শেঠিকেও ডিএসসি সম্মান দেওয়া হয়। তিনি অবশ্য এদিন হাজির থাকতে পারেননি। তাঁর হয়ে অন্য একজন সম্মান গ্রহণ করেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শঙ্করকুমার নাথ বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এমন মহান ব্যক্তিদের পেয়ে আমরা ধন্য হয়েছি।

Advertisement

ইসরোর চেয়ারম্যানের বক্তব্য পড়ুয়ারা মুগ্ধ হয়ে শোনেন। কীভাবে এই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলেছে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেন। চন্দ্র অভিযানের সাফল্যের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। স্যাটেলাইট টেকনোলজিতে দেশ কতটা এগিয়েছে, সেটাও তিনি পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরেন। 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমাবর্তনে উপাচার্য হিসেবে রাজ্যপালের উপস্থিত থাকার প্রথা রয়েছে। এবারও তিনি আসবেন বলে ঠিক হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, রাজ্যপাল আসবেন না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রাক্তন সার্ভেয়ার জেনারেল ডক্টর পৃথ্বীশ নাগ। তিনি বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলছে। এখানকার ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে হয়। ৩৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পেরে ভালো লাগছে। বিশ্ববিদ্যায় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পড়াশোনার মান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন কোর্স শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাঝে দীর্ঘদিন স্থায়ী ভিসি ছিলেন না। তার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজ থমকে যায়। স্থায়ী ভিসি নিয়োগ হওয়ার পর সেসব জটিলতা কেটেছে। প্রাক্তনীরা বলেন, একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকত। সম্প্রতি গ্রেডের মানও কমে গিয়েছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় আবার পুরনো জায়গা ফিরে পাবে বলে আশাবাদী। এক প্রাক্তনী বলেন, বহু রত্ন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনও ক্ষেত্রে পিছিয়ে যেতে দেখলে খারাপ লাগে। এদিনের গুণীজনদের ‘স্পিচ’ পড়ুয়াদের উৎসাহিত করবে। এনিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় যাতে আরও এগিয়ে যায় সেদিকটা দেখা উচিত।
ইসরোর চেয়ারম্যান পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার জন্য তাঁর জীবন সংগ্রামের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেছিলেন। অধ্যাপক পদ্মনাভন বলরামের বক্তব্যও ছাত্রছাত্রীদের মুগ্ধ করেছিল। এক সময় তিনি ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সের ডাইরেক্টর ছিলেন।  পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক পদ্মনাভন বলরামকে সম্মান জানাচ্ছেন উপাচর্য।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ