Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জাতীয়করণের মধ্যে দিয়ে সরকার অর্থনৈতিক চাপ নিতে পারবে না, সরকারি কারখানার খোলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শমীকের

সরকার কেন সস্তায় লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বিক্রি করে দিচ্ছে? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের বিস্ফোরক উত্তর দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

জাতীয়করণের মধ্যে দিয়ে সরকার অর্থনৈতিক চাপ নিতে পারবে না, সরকারি কারখানার খোলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শমীকের
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সরকার কেন সস্তায় লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বিক্রি করে দিচ্ছে? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের বিস্ফোরক উত্তর দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘সরকার কোনও ব্যবসা করবে না। শুধু জাতীয়করণের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন একটা সরকার বিরাট অর্থনৈতিক চাপ নিতে পারবে না। যদি কেউ মনে করে থাকেন, কেন্দ্র সরকার এখানে এসে একটার পর একটা শিল্প তৈরি করে দেবে, সেটা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকার পরিকাঠামো গড়ে দেবে।’  প্রধানমন্ত্রী আসার একদিন আগে বৃহস্পতিবার স্টিল সিটি দুর্গাপুরে এসেই বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি। সভাপতি হওয়ার পর প্রথমবার শিল্পাঞ্চলে এসেছেন শমীকবাবু। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বহু বন্ধ সরকারি কারখানা খোলার স্বপ্ন দেখছিলেন সাধারণ শ্রমিকরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার যে কোনও সম্ভাবনাই নেই, তা এদিন রাখঢাক না করেই জানিয়ে দেন শমীকবাবু। যার ফলে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। তাহলে কি শিল্পাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধুই গ্যাস প্রকল্প ও রেলওয়ে ওভারব্রিজ উদ্বোধন করতে, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করার পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের এমপি কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, দুর্গাপুরে এসে বিভাজনের রাজনীতি আর মিথ্যাচার করবেন না। দুর্গাপুরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা এমএএমসি, বিওজিএল, হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কারখানা খুলুন। শিল্পের পুনরুজ্জীবন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন। বাংলার সরকারের প্রাপ্য দু’ লক্ষ কোটি টাকা অবিলম্বে দিন। কোর্টের নির্দেশ পরেও একশো দিনের প্রকল্পে কেন বরাদ্দ করছেন না। এমনই এক গুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন স্থানীয় এমপি। প্রধানমন্ত্রীর সভার একমাত্র আকর্ষণ ছিল, তিনি বন্ধ কারখানা খুলে শিল্পাঞ্চলের শ্রীবৃদ্ধির চেষ্টা করবেন কি না, তা জানা। দুর্গাপুরের পাশাপাশি আসানসোলের হিন্দুস্থান কেবলস, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানা খোলা নিয়ে মানুষ তাঁর দিয়ে তাকিয়েছিল। কিন্ত প্রধানমন্ত্রীর সভার একদিন আগেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের আশায় জল ঢেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। কয়লা খনি রাষ্ট্রায়াত্তকরণ না হলে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বরের বিকাশই হতো না। একই ভাবে ইস্পাত কারখানা রাষ্টায়াত্তকরণ না হলে অস্তিত্ব থাকত না ডিএসপি, এএসপি, ইস্কোর। শমীকবাবুর কথায় আশঙ্কিত শ্রমিক মহল। তাহলে কি বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি হাতে তুলে দেবে? সেই আশঙ্কা‌ই ঩এখন প্রবল হয়ে ওঠল বলে শ্রমিক মহলের দাবি। আ‌ইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওঁরা দেশের ইতিহাস জানেন না। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে আমাদের দেশের শিল্পের বুনিয়াদ। ওঁরা আসলে দেশটাই বিক্রি করতে চান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে তাঁদের স্বপ্নপূরণ হবে না।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ