Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার সরকারি ত্রিপল, ব্লিচিং, গ্রেপ্তার ২ শ্রমিক নেতা

কাঁকসার তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল সরকারি ত্রিপল ও ব্লিচিং। গ্রেপ্তার ২ শ্রমিক নেতা, স্থানীয়দের অভিযোগে উত্তাল এলাকা। বিস্তারিত পড়ুন।

তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার সরকারি ত্রিপল, ব্লিচিং, গ্রেপ্তার ২ শ্রমিক নেতা
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর:  তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় থেকে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, ব্লিচিং পাউডার, মাছের খাবার মেলার অভিযোগে বুধবার উত্তাল হয়েছিল কাঁকসার গোপালপুর এলাকা। বিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার দুই তৃণমূল নেতা শিবদাস মণ্ডল ও মানস দত্তকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের পুলিশ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই দুই নেতার ‘দাদাগিরি’তে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও এদিন দুই নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় মানসবাবু বলেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সদস্য শিবদাস মণ্ডল।  প্রথমে গোপালপুর শিল্পতালুকের একটি কারখানায় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতেন শিবদাসবাবু। পরে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার বেতাজ বাদশা বনে যান। প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে তাঁর চালচলনও বদলে গিয়েছিল।  এদিকে বিরোধীদের দাবি, জলা জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ থেকে শুরু করে শ্রমিকদের থেকে তোলাবাজি। মানুষকে ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই শিবদাসের নামে। কিন্তু এলাকার কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। খুনের হুমকি দেওয়া হত। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে তাঁদের কাজ বন্ধ  করে দেওয়া হয়েছে। 
বিজেপির কর্মীরা দাবি করেন, গোপালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের কাছে ত্রিপল চাইলে বলছেন নেই! অথচ নেতার দলীয় কার্যালয় থেকে কয়েকশো ত্রিপল উদ্ধার হচ্ছে! ওই কার্যালয়ের পাশে আর একটি কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তাবন্দি মাছের খাবার। অভিযোগ, সেগুলি চড়া দামে বাইরে বিক্রি করা হত। আর তার টাকা যেত ওই শিবদাসের পকেটে। এই কাণ্ড  কাঁকসায় দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে। 
এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, শিবদাসের ‘ডানহাত’ ছিলেন মানস। শ্রমিকদের থেকে নিয়মিত তোলা আদায়ে মানস ছিলেন ‘সিদ্ধহস্ত’। কোনো কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গেলে আগে এই দু’জনকে ‘প্রণামী’ দিতে হত। উপযুক্ত প্রণামী না পেলে কারখানায় কাজ মিলত না। এদিকে, বিজেপি নেতা সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়ের দাবি, আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। এদিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।  উদ্ধার হওয়া ত্রিপল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ