Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কারখানা নির্মাণের প্রবণতা ২০২১ সালের পর সবচেয়ে কম, প্রকাশ সরকারি সার্ভে রিপোর্টেই

অর্থনীতির বৃদ্ধিহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নতুন কারখানা নির্মাণ। ভারতে নতুন কারখানা ও শিল্প ইউনিট নির্মাণের প্রবণতা নিরাশজনক।

কারখানা নির্মাণের প্রবণতা ২০২১ সালের পর  সবচেয়ে কম, প্রকাশ সরকারি সার্ভে রিপোর্টেই
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থনীতির বৃদ্ধিহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নতুন কারখানা নির্মাণ। ভারতে নতুন কারখানা ও শিল্প ইউনিট নির্মাণের প্রবণতা নিরাশজনক। কারখানা নির্মাণের হার কমে যাচ্ছে। সরকারি সমীক্ষা রিপোর্টেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টানা শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিহার ইতিবাচক। শিল্পে কর্মসংস্থান বেড়েছে। মোট কারখানার সংখ্যাবৃদ্ধি হয়েছে। কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির পরিমাণও আশাব্যঞ্জক। আপাতভাবে এই প্রতিটি পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে শিল্পোৎপাদন প্রবণতা ইতিবাচক। অন্তত মোদি সরকার সেই দাবিই করেছে । কিন্তু সরকারের সর্বশেষ অ্যানুয়াল সার্ভে অব ইন্ডাস্ট্রিজের সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক উদ্বেগজনক বার্তাও প্রকট হয়েছে। দেখা যাচ্ছে,  নতুন কারখানা নির্মাণের হার কমে গিয়েছে। ২০২১ সালের করোনাকালের পর থেকে যে পরিমাণ বৃদ্ধি হচ্ছিল, সেই গতি অনেকটা শ্লথ হয়েছে। বিগত আর্থিক বছরে যে পরিমাণ নতুন কারখানা স্থাপনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে, সেই হার ২০২১ সালের পর সবথেকে কম। একইভাবে নতুন উৎপাদন ইউনিট নির্মাণের উৎসাহ ও আগ্রহে শিল্পমহল তথা বাণিজ্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ লগ্নি হওয়া কথা, সেটি চোখে পড়ছে না। তার পরিণতি হল, নতুন কারখানা স্থাপনে দেশি ও বিদেশি  লগ্নির হার কমেছে। এই প্রবণতার বার্তা দিয়েছে গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফর্মেশন। অর্থাৎ নতুন মোট সম্পদ কতটা শিল্পক্ষেত্রে যুক্ত হল। সেই পরিমাণ ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। চলতি বছরের প্রাক্কালে হয়েছে ৬৩ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। করোনাকালের পর যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ৭৭ শতাংশ। সেটি ২০২৫ সালের শেষে এসে এই আর্থিক বছরের প্রাক্কালের হিসাবে কমে গিয়েছে। নতুন উপকরণ, যন্ত্রাংশ কারখানায় যুক্ত হওয়ার হার পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে ছিল ৬ শতাংশ। সেটি কমে ঠিক অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

একজন কর্মী তথা শ্রমিক কোনও কারখানায় বছরে যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করে, সেই হারকে পরিভাষায় বলা হয় কর্মীপিছু আউটপুট রেট। সেটি হয়েছে ০.৫ শতাংশ। যা পূর্ববর্তী বছরে হয়েছিল ০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ বৃদ্ধিহার নগণ্য। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে যে বার্তা বিপজ্জনক সেটি হল, কর্মী পিছু উৎপাদনের বৃদ্ধি হার প্রায় শূন্য বলা যায়। যা ১৯৮২ সালের পর আজ পর্যন্ত হয়নি। কারণ, যত মন্দাই হোক, বাজারে চাহিদা যত কমই হোক পণ্য উৎপাদনের বৃদ্ধিহার অন্তত ১ শতাংশ হলেও বেড়ে যাওয়ার কথা। গড়ে কারখানা প্রতি মুনাফার হার ৫ শতাংশ বেড়েছে। যা পূর্ববর্তী বছরে বেড়েছিল সাড়ে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ মুনাফার হার কমেছে। এই সব কিছু হলে এই সমীক্ষায় কর্মসংস্থান বেড়েছে দেখা যাচ্ছে। কারণ,  যত কারখানা রয়েছে, সেখানেই কর্মী নিয়োগ হয়েছে। নতুন কারখানা নির্মাণ এবং নতুন করে কর্মী নিয়োগের হার সেই তুলনায় অনেকটাই কম। ওড়িশা, সিকিম, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় এবং গুজরাতে কর্মী পিছু উৎপাদন বৃদ্ধি সবথেকে বেশি। অর্থাৎ বৃহৎ অর্থনীতির রাজ্যগুলিকে পিছিয়ে দিয়েছে এই রাজ্যগুলি। প্রসঙ্গত, শিল্পোৎপাদন হার যদি বেড়ে গিয়েছে বলে সরকার দাবি করে, তাহলে কারখানার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কথা আনুপাতিক হারে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই প্রবণতা অনুপস্থিত। এর অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, গ্রামীণ ভারতের পণ্য চাহিদা কমছে। শহুরে এলাকায় মূল্যবৃদ্ধির জেরে পণ্য ক্রয় কমেছে। আর সেই কারণেই কারখানা উৎপাদনের প্রবণতায় ভাটা পড়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ