নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থনীতির বৃদ্ধিহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নতুন কারখানা নির্মাণ। ভারতে নতুন কারখানা ও শিল্প ইউনিট নির্মাণের প্রবণতা নিরাশজনক। কারখানা নির্মাণের হার কমে যাচ্ছে। সরকারি সমীক্ষা রিপোর্টেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টানা শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিহার ইতিবাচক। শিল্পে কর্মসংস্থান বেড়েছে। মোট কারখানার সংখ্যাবৃদ্ধি হয়েছে। কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির পরিমাণও আশাব্যঞ্জক। আপাতভাবে এই প্রতিটি পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে শিল্পোৎপাদন প্রবণতা ইতিবাচক। অন্তত মোদি সরকার সেই দাবিই করেছে । কিন্তু সরকারের সর্বশেষ অ্যানুয়াল সার্ভে অব ইন্ডাস্ট্রিজের সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক উদ্বেগজনক বার্তাও প্রকট হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, নতুন কারখানা নির্মাণের হার কমে গিয়েছে। ২০২১ সালের করোনাকালের পর থেকে যে পরিমাণ বৃদ্ধি হচ্ছিল, সেই গতি অনেকটা শ্লথ হয়েছে। বিগত আর্থিক বছরে যে পরিমাণ নতুন কারখানা স্থাপনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে, সেই হার ২০২১ সালের পর সবথেকে কম। একইভাবে নতুন উৎপাদন ইউনিট নির্মাণের উৎসাহ ও আগ্রহে শিল্পমহল তথা বাণিজ্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ লগ্নি হওয়া কথা, সেটি চোখে পড়ছে না। তার পরিণতি হল, নতুন কারখানা স্থাপনে দেশি ও বিদেশি লগ্নির হার কমেছে। এই প্রবণতার বার্তা দিয়েছে গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফর্মেশন। অর্থাৎ নতুন মোট সম্পদ কতটা শিল্পক্ষেত্রে যুক্ত হল। সেই পরিমাণ ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। চলতি বছরের প্রাক্কালে হয়েছে ৬৩ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। করোনাকালের পর যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ৭৭ শতাংশ। সেটি ২০২৫ সালের শেষে এসে এই আর্থিক বছরের প্রাক্কালের হিসাবে কমে গিয়েছে। নতুন উপকরণ, যন্ত্রাংশ কারখানায় যুক্ত হওয়ার হার পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে ছিল ৬ শতাংশ। সেটি কমে ঠিক অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।



