নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম আমলের সরকারি আইনকে হাতিয়ার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠাল উচ্চশিক্ষা দপ্তর। শুধু চেয়ে পাঠানোই নয়, এতদিন তা কেন দপ্তরে পাঠানো হয়নি, তাও কৈফিয়তের সুরে জানতে চেয়েছে বিকাশ ভবন। তাদের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত একজন ব্যক্তিরও অবসরকালীন কাগজপত্র সরকারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তরফে পাঠানো হয়নি। এর কারণ ৮ আগস্টের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে।
বামফ্রন্ট সরকারের তৈরি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ (ডেথ-কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) স্কিম ১৯৯৯ প্রকাশিত হয় ২০০০ সালের জানুয়ারিতে। তাতে বলা হয়েছিল, এ ধরনের কাজ সম্পাদিত হবে রাজ্য সরকারের ডিরেক্টর অব পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের দপ্তর থেকে। এই বিভাগেই তথ্যগুলি অডিট এবং স্ক্রুটিনি হবে। তৃণমূল সরকারও ২০১৫ সালে একটি বিধি অর্ডার আকারে জারি করেছিল। সেটি হল ওয়েস্ট বেঙ্গল নন-গভর্নমেন্ট এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস, লোকাল অথরিটিজ অ্যান্ড আদার ইনস্টিটিউশনস এমপ্লয়িজ (ডেথ কাম রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) অডিট রুলস ২০১৫। বিধির অধীন চ্যাপ্টার ৩, পয়েন্ট ৪-এ বিস্তারিতভাবে বলা আছে, কীভাবে এই রিভিউ স্ক্রুটিনি করা হবে। সেই পথেই এবার এগতে চাইছে সরকার।
হঠাৎ কেন এই নজরদারি? উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘শিক্ষক-আধিকারিকদের বেতন এখন পুরোপুরি রাজ্য সরকারের হাতে। বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হলেও এবার সরাসরি রাজ্য সরকার এইচআরএমএস পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটসও এই পরিকল্পনার অংশ।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই আধিকারিক আরও দাবি করেন, এ নিয়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা নয়ছয় হয়। আর্নড লিভ (ইএল) খাতে বাড়তি টাকা ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও সরকারের কাছে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। এসব এতদিন সরকার সেভাবে জানতে পারত না। তাই এর রাশ রাজ্য এখন নিজের হাতে রাখতে চাইছে। তাছাড়া, এই পদ্ধতিতে প্রাপক অনেক দ্রুত, সঠিক বেতন এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
যদিও, এই পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করেছে অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুটা। ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির সম্পাদক দেবব্রত দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে এটি সরকারি হস্তক্ষেপের উদাহরণ। পুরনো একটি বিধি, যা কখনও কার্যকর করা হয়নি, সেটাকে হাতিয়ার করে তথ্য চাওয়া হচ্ছে। শুধু তথ্য চাওয়াই নয়, রীতিমতো হুমকির সুরে জবাবদিহিও চাওয়া হচ্ছে। যার তীব্র বিরোধিতা করছে ওয়েবকুটা।