Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জলাশয় ভরাট করে কারখানা, পরিদর্শনে সরকারি আধিকারিক

তারকেশ্বর থানার এলাকার বালিগড়ি-২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাগবাড়ি। সেখানে ১৪ বিঘা জলাশয় ভরাট করে কারখানা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

জলাশয় ভরাট করে কারখানা, পরিদর্শনে সরকারি আধিকারিক
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা তারকেশ্বর: তারকেশ্বর থানার এলাকার বালিগড়ি-২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাগবাড়ি। সেখানে ১৪ বিঘা জলাশয় ভরাট করে কারখানা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত পুকুর ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

আদালতের নির্দেশ মানা হয়েছে কি না দেখতে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শনে যান তারকেশ্বরের সমষ্টি ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক। জানা গিয়েছে, জলাশয়ের জায়গায় কারখানার শেড রয়েছে বলে পরিদর্শনে উঠে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ক্ষোভ উগড়ে দেন। বাম আমলে বিতর্কিত জায়গাটি তারকেশ্বর মঠ থেকে আদিবাসীদের দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি উঠেছিল। আদিবাসীদের জায়গা হস্তান্তরের বিধি নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। মামলা পর্যন্ত হয়েছিল। তারপর সেখানে তৈরি হয় একটি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কারখানার লাগোয়া শ্মশানের যাতায়াতের জন্য থাকা রাস্তা নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। লেথো শ্মশান কমিটি গঠন করে মামলাও রুজু হয়। শ্মশান ও জলাশয় নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা। লেথো শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি ছবি হাঁসদা ও সম্পাদক বাবুসোনা রায় জানান, সি এস ও আর এস এ ২৮ বিঘা জলাশয় ছিল। পরবর্তীকালে  জলাশয়টি এল আর-এ ১৪ বিঘা পাওয়া যায়। আমরা কারখানার বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই ১৪ বিঘা পুকুর ফিরিয়ে দিক কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই পুকুর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা চাষাবাদ ও শ্মশানে  শবদাহের পর জল ব্যবহার করত। আগেও বেশ কয়েকবার মহামান্য হাইকোর্ট জলাশয় ফিরিয়ে দেওয়ার অর্ডার দেন। বিভিন্ন অছিলায় তা অগ্রাহ্য করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে পুনরায় অর্ডার হয়। এখনো পর্যন্ত সেই অর্ডার কার্যকর হয়নি। ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিগত সরকার আদালতের রায় অমান্য করেছে। নতুন সরকার এই বিষয়ে সদর্থক ব্যবস্থা নেবে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে জায়গাটি যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই জায়গাটি কেনা হয়েছিল। আদালতে মামলা চলার কারণে এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তারকেশ্বরের বিএলআরও অংশুমান চক্রবর্তী জানান, ‘হাইকোর্টের নির্দেশ পালন হয়েছে কি না তা আমরা দেখতে এসেছি। টেলিফোনে আইনজীবী আমাকে জানিয়েছেন এই বিষয়ে আজ স্টে অর্ডার হয়েছে। এখন আমার কাছে হাইকোর্টের নির্দেশ আসেনি। 

সম্পর্কিত সংবাদ