নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভেঙে পড়ছে ছাদের চাঙড়। দেওয়ালে চওড়া ফাটল। এ হেন পরিত্যক্ত ভবনেই জলপাইগুড়িতে চলছে সরকারি অফিস। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বিল্ডিং। সেক্ষেত্রে বড়োসড়ো বিপদ ঘটতে পারে। সবটা জেনেও জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিস চত্বরে বিপজ্জনক ওই ভবনে চলছে শ্রমদপ্তরের ওয়েলফেয়ার ফেসিলিটেশন সেন্টার। কিছুদিন আগেই অফিস চলাকালীন বিশাল এক চাঙড় খসে পড়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন কর্মীরা। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন কাজে প্রতিদিনই এই অফিসে আসেন। কিন্তু বিল্ডিংটির যা অবস্থা, তাতে যে কোনো মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কায় তটস্থ থাকেন তাঁরা।
নিজের বিধানসভা এলাকা না হলেও বিষয়টি নজরে আসায় ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে যাতে দ্রুত অফিস সরানো হয়, সেব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার। তিনি বলেন, এসব দিকে আগের সরকারের কোনো নজর ছিল না। পরিত্যক্ত ভবনে অফিস চলা মোটেই ঠিক নয়। কোনো বিপদ ঘটলে তখন প্রশাসনের উপর সমস্ত দায় চলে আসবে। শীঘ্রই যাতে ওই বিপজ্জনক বিল্ডিং থেকে সরকারি অফিস সরিয়ে নেওয়া হয়, সেব্যাপারে জলপাইগুড়ি সদর বিডিওকে বলব। বিষয়টি সদরের বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীকেও জানাব। জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও বিপ্লবকুমার বিশ্বাস বেহাল ওই ভবন থেকে শ্রমদপ্তরের ওয়েলফেয়ার ফেসিলিটেশন সেন্টার যাতে সরানো যায়, তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
জলপাইগুড়ি সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির চেম্বারের পাশে শ্রমদপ্তরের ওয়েলফেয়ার ফেসিলিটেশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ওই বিল্ডিংয়ে খসে পড়ছে ছাদের চাঙড়। দেওয়ালে চওড়া ফাটল। চারদিকে ঝুল। পাশেই আবর্জনার স্তূপ দেখে মনে হতেই পারে যেন ভাগাড়। টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই চলছে অফিস। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে পরিষেবার জন্য নিত্যদিন ভিড় জমান শ্রমিকরা। যেকোনো দিন পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে পড়ে বিপদ হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা। এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রমিকরা।
অফিসের কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই এমন বেহাল অবস্থা। উপর মহলে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে হয়। তাছাড়া অফিসের চারপাশে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এসব দেখার কেউ নেই। • নিজস্ব চিত্র।