নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন চাকরিতে শূন্যপদগুলির সংরক্ষণের ব্যবস্থা নির্দিষ্ট করতে ‘১০০ পয়েন্ট রোস্টারের’ বিজ্ঞপ্তি ফের জারি করা হয়েছে। ১৩ জুন শ্রমদপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি), সব দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ পয়েন্ট রোস্টারের বিজ্ঞপ্তি জারি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কারণ আগামী দিনে সরকারি দপ্তর এবং প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই রোস্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিককালেই একাধিকবার বলেছেন, ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতা কেটে গেলে রাজ্য সরকার লক্ষাধিক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সরকারি অফিসে শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পিএসসি আছেই। ওইসঙ্গে নতুন করে গঠন করা হয়েছে স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি)। সরকারি অফিসে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্যই এই উদ্যোগ। সল্টলেক-নিউটাউনে এসএসসির নতুন অফিস ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে।
সরকারি অফিস এবং প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০০ পয়েন্ট রোস্টারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রোস্টারে একশোটি পদের কোনটি কাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে। একশোর বেশি শূন্যপদ হলে এই মডেলে সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি চাকরিতে তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি জনজাতি (এসটি), ওবিসি (এ এবং বি শ্রেণি) অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (ইডব্লুএস) ছাড়াও বিশেষভাবে সক্ষম, এগজেমটেড ক্যাটিগরি (ইসি) এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য পদ সংরক্ষিত রাখতে হয়। সংরক্ষিত পদের মধ্যেও আবার সংরক্ষণ থাকে। যেমন এসসিদের জন্য সংরক্ষিত কোনও কোনও পদ আবার এগজেমটেড ক্যাটিগরি বা প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কোন পদটি কাদের জন্য সংরক্ষিত বা সংরক্ষিত নয় তা পদের ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী রোস্টারে নির্দিষ্ট করা থাকে। পিএসসি বা অন্যকোনও সরকারি সংস্থা বা দপ্তর কর্মী নিয়োগ করার সময় যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাতে এই রোস্টার অনুযায়ী কতগুলি পদ সংরক্ষিত বা সংরক্ষিত নয় তা নির্দিষ্ট করে দেয়। সব মিলিয়ে একশো পয়েন্ট রোস্টার ছাড়া সরকারি জায়গায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
২০১১ সালের মার্চ মাসে রাজ্য শ্রমদপ্তর তৎকালীন মুখ্যসচিব সমর ঘোষের সইসংবলিত একশো পয়েন্ট রোস্টারের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। ওবিসি এ এবং বি শ্রেণিদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে নতুন করে রোস্টার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শ্রমদপ্তরকে রোস্টার করতে হয়েছিল ইডব্লুএসদের জন্য সংরক্ষণ করার জন্য। ওবিসি সংরক্ষণে জটিলতা তৈরি হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন সমীক্ষার ভিত্তিতে জাতিগুলিকে এ এবং বি শ্রেণিতে নির্দিষ্টকরণসহ নয়া বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি জারি করা হয়েছে। সেই কারণে ফের একশো পয়েন্ট রোস্টার তৈরি করতে হল রাজ্য সরকারকে।