সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এবার দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচের বহর বাড়িয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। প্রতিমা তৈরি থেকে প্রতিমার সাজ, শাড়ি ও গয়নার ফ্যাশনে নজর দিচ্ছেন তাঁরা। ফলে এবার ভালো লাভের আশায় মৃৎশিল্পীরা।
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এবার দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচের বহর বাড়িয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। প্রতিমা তৈরি থেকে প্রতিমার সাজ, শাড়ি ও গয়নার ফ্যাশনে নজর দিচ্ছেন তাঁরা। ফলে এবার ভালো লাভের আশায় মৃৎশিল্পীরা।
তারকেশ্বর থানা এলাকার চাঁপাডাঙ্গায় নদীয়ার শিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র পালের স্টুডিও। এই স্টুডিওতে বছরে প্রায় ১০০ দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়। এখান থেকেই তা পৌঁছে যায় গ্রাম-শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে। প্রতিমার দাম সাইজ ও সাজ অনুযায়ী। শুরু ৪০ হাজার থেকে। কোনও কোনও প্রতিমার দাম ওঠে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। প্রতিমা তৈরিতে পুরুষদের পাশাপাশি হাত লাগান মহিলারাও। গ্রামের মহিলারা বরাত অনুযায়ী দেবীর বিভিন্ন সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করেন। রং করতেও সাহায্য করেন শিল্পীদের। এই স্টুডিওতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিমা শিল্পীদের সাহায্য করেন ৭০-৮০ জন মহিলা।
প্রতিমা শিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র পাল বলেন, এ বছর ৮৬টি দুর্গা প্রতিমার বরাত পেয়েছি। তবে সনাতনী মূর্তির চাহিদাই বেশি। হাতে টাকা পাওয়ায় উদ্যোক্তারা এবার অনেকটাই দরাজ। প্রতিমার জন্য তাঁরা বরাদ্দ বাড়িয়েছেন প্রায় কুড়ি শতাংশ। আগে যে শাড়ি মাকে পরানো হতো, তার দাম ছিল মিটার পিছু ৩৫-৪০ টাকা। এবার দেখছি, ওই শাড়ি পছন্দ নয় উদ্যোক্তাদের। বরং তাঁরা ২৫০-৪৫০ টাকা মিটারের শাড়ির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এই শাড়িতে সুতো দিয়ে নকশা করা রয়েছে। একটি দুর্গা প্রতিমার জন্য প্রায় ন’ মিটার কাপড় লাগে। চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমার গয়না। রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদানের কারণেই পুজোর উদ্যোক্তারা এবার প্রতিমার জন্য বাড়তি খরচ করতে কার্পণ্য করছেন না। এর ফলে আমাদের মতো মৃৎশিল্পী, ডেকরেটর, আলোক শিল্পীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। এখনও অবধি যা পরিস্থিতি, তাতে মৃৎশিল্পীরা অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লাভের মুখ দেখতে পাবেন।