শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকারি বাস ডিপো থেকে উধাও তেল। এক-দু’লিটার নয়, চুরি হয়েছে ৩২ হাজার লিটার ডিজেল। তা বিক্রি হয়েছে খোলা বাজারে। জানা গিয়েছে, টানা আট মাস ধরে এই কাণ্ড ঘটে চলেছে বাস ডিপোয়। ওই ডিজেল বিক্রি হয়েছে কাটা তেলের অবৈধ কারবারিদের সিন্ডিকেটের কাছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তেলের বণ্টন, রিক্যুইজিশন ও তেল কোম্পানি থেকে জ্বালানি নিয়ে আসার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি কর্মীর। অডিট রিপোর্টে তেল চুরির বিষয়টি ধরা পড়তেই পরিবহণ দপ্তর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে রামপুরহাট থানায়। তার ভিত্তিতে রাজা কুমার নামে পরিবহণ দপ্তরের ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, রামপুরহাটে পরিবহণ দপ্তরের ডিপোয় যে বাসগুলি গ্যারাজ হয়, সেগুলিতে তেল ভরা হয় সেখানেই। কোন বাসে কত লিটার ডিজেল ভরা হবে, তা নির্দিষ্ট করা থাকে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই ডিপোয় তেল ভরতে গিয়ে ডিজেল পাচ্ছিল না বাসগুলি। অথচ খাতায়-কলমে দেখানো হয়েছে, ডিপোর রির্জাভারে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অডিট করতে গিয়ে দিনে কত সংখ্যক বাসে কত পরিমাণ তেল ভরা হয়েছে, সেই তথ্য কাটাছেঁড়া করতে গিয়েই দুর্নীতির বিষয়টি ধরে ফেলেন আধিকারিকরা। দেখা যায়, রেজিস্টার অনুযায়ী, ট্যাঙ্কার থেকে ১২ হাজার লিটার ডিজেল ভরা হয়েছে রিজার্ভারে। ওই পরিমাণ ডিজেল যত সংখ্যক বাসে বণ্টন হওয়ার কথা, তা হয়নি। অনেক বাস তেল পেত না। সেই সব বাসের চালকদের রামপুরহাটের বদলে অন্য ডিপো থেকে তেল তোলার পরামর্শ দেওয়া হতো। অডিটে ধরা পড়ে ট্যাঙ্কার থেকে যে পরিমাণ তেল রিজার্ভারে ভরার কথা, তা হয়নি। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে পরিবহণ দপ্তর। জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে সেখানকার কর্মী রাজা কুমার। এরপর রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই কর্মীকে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই কর্মী রাজবাঁধ এলাকায় ট্যাঙ্কার নিয়ে যেত অয়েল কোম্পানিতে তেল আনতে। ট্যাঙ্কারে ১২ হাজার লিটার ডিজেল ধরে। তেল ভরার পর ঢাকনার উপর রড লাগিয়ে দেওয়া হয়। যাতে ঢাকনাগুলি কোনওভাবে খোলা না যায়। অভিযুক্ত পুলিসকে জানিয়েছে, তেল ভরার পর ট্যাঙ্কার নিয়ে সে ইলামবাজারে আসত। সেখানে ওই রড কেটে ঢাকনা খুলে তেল বের করা হতো।
ওই এলাকায় কাটা তেলের সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। মোটামুটি প্রতি ট্যাঙ্কার থেকে বের করা হতো গড়ে দু’হাজার লিটার ডিজেল। যা বিক্রি করা হতো সিন্ডিকেটের লোকজনকে। শেষে ঢাকনার উপর রড লাগিয়ে ডিপোয় নিয়ে আসত রাজা। খাতায়-কলমে ১২ হাজার লিটার এন্ট্রি হলেও বাস্তবে মিলত দশ হাজার লিটার তেল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত টানা এই ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ৩২ হাজার লিটার তেল হাতিয়েছে। যেকারণে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। পুলিসেও অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ডিপোগুলি থেকে তেল চুরি আটকাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।