নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলবে না। প্রশাসন থেকে এমন নির্দেশ জারি হয়েছে বার বার। কিন্তু রাস্তায় তার প্রভাব কোথায়? বারাসতে এখনও জাতীয় ও রাজ্য সড়কে দিব্যি চলছে টোটো। এবার সেই টোটো বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করার কথা ফের বললেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরে আচমকা পরিদর্শনে এসে এবিষয়ে সরব হন মন্ত্রী।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরে কয়েক মাস আগে বারাসতে টোটো চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিল ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসন। জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো আটকানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়। কিন্তু ভারতীয় মজদুর সংঘের আন্দোলন ও বিক্ষোভের পরে সেই উদ্যোগ আর বেশি দূর এগয়নি। রাস্তায় টোটো চলাচলও বন্ধ হয়নি। উলটে টোটোর সংখ্যা বেড়েছে বলেই অভিযোগ শহরবাসীর। এদিকে বারাসত শহরে যানজটের অন্যতম কারণ হিসাবে টোটোর অবাধ চলাচলকে তুলে ধরা হয় দীর্ঘদিন। শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে জাতীয় সড়কেও চলছে টোটো। ফলে যানজটের সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।এর মধ্যেই শহর ও শহরতলিতে সরকারি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। মন্ত্রীর দাবি, পুজোর আগেই ৯০টি সরকারি বাস রাস্তায় নামবে। পুজোর পরে আরও ৫০০টি বাস চালু হবে। সেই বাসগুলিও জাতীয় ও রাজ্য সড়কেই চলবে। তাই ওই রাস্তায় টোটোর চলাচল নিয়ে নতুন করে আপত্তি তুলেছেন মন্ত্রী। অর্জুন বলেন, নতুন সরকারি বাস তো রাস্তাতেই চলবে। জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে টোটো চললে হবে না। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলতে হবে।তবে শুধু টোটো চলাচল নয়, টোটোর মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এক একজনের হাতে একাধিক টোটো রয়েছে। প্রকৃত দরিদ্র মানুষ টোটো পাননি। পারমিট ছাড়া অটো চলছে। সরকারকে করও দেওয়া হচ্ছে না। এই ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোটর ভেহিকল ইনস্পেক্টরদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই পুরনো প্রশ্নটা আবার সামনে। নির্দেশ কি এবারও শুধু নির্দেশ হয়েই থাকবে? স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নির্দেশের অভাব নেই। অভাব দেখা যাচ্ছে তার বাস্তব প্রয়োগেই। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, জেলাশাসকের কাছ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশ এলে ব্যবস্থা নেব।