সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: অধিবেশনের ১১ দিন পার। পাশ হয়নি একটিও বিল। সোমবারও উত্তাল হল লোকসভা। বিরোধীদের বাগে আনতে ব্যর্থ সরকার। তাই মাথায় হাত। বিরোধীরা অটল, বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতে আলোচনা করতেই হবে। অন্যদিকে, সরকারও অনড় আলোচনা হবে না। ফলে জট কাটছে না। তবে আর নয়। এবার বাদল অধিবেশনের (২১ জুলাই-২১ আগস্ট) ২১ দিনে ১৫ টি বিল পেশ এবং সিংহভাগ পাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনটি বিল পেশ হয়েছে মাত্র। একটিও পাশ হয়নি। তাই বিরোধীরা আগামী দিনেও লোকসভায় হইহট্টগোল চালিয়ে গেলে তারই মধ্যে সরকার বিল পাশ করাতে বাধ্য হবে বলেই সোমবার জানিয়ে দিলেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। অচলাবস্থা চলতে থাকলে আগামী ১২ আগস্টই অধিবেশন শেষ হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধীরাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর ইস্যুতে আলোচনা করতেই হবে। না হলে থামব না। এ ব্যাপারে নিজেদের দাবিতে আরও সক্রিয় হচ্ছে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সরকারের যুক্তি, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা। তার প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যায় না। বিরোধীদের পাল্টা দাবি, প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে না হোক, সার্বিক নির্বাচনী সংস্কার (ইলেকটোরাল রিফর্মস) নিয়ে তো চর্চা হতেই পারে। যেভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে সংসদে বিশেষ আলোচনা হয়েছে, একইভাবে এসআইআর ইস্যুতে ‘বিশেষ’ আলোচনা হোক।
সরকারের বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদের আগামী অধিবেশনে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বড়সড় কোনও উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোদি। ফলে বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে যতই চেঁচাক, সরকার কান দেবে না। বৃহত্তর নির্বাচনী সংস্কার সংক্রান্ত উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের চাপে ফেলা হবে বলেই ঠিক হয়েছে। যদিও সেটি ঠিক কী, তা স্পষ্ট করেননি রিজিজু। ফলে অধিবেশন যত এগচ্ছে, সরকার এবং বিরোধী দু’ পক্ষই কোমর বেঁধে নামছে।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনই দলের সাংসদদের স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, এসআইআর ইস্যুতে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে বিষয়টিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করলেও তৃণমূল যেন নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকে। বিহারের পর বাংলায় ভোট। তাই এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলকেই সবচেয়ে বেশি সংসদে সরব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। একইসঙ্গে বাংলাভাষী ইস্যু। বাঙালির অপমান কোনওভাবেই মানা হবে না। এই ইস্যুতে সোমবারই লোকসভা উত্তাল করেছে তৃণমূল। প্রথম পর্বে মুলতুবির পর দুপুর দুটোয় সভা বসলে এসআইআর বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় ওয়েলে নেমে প্রবল প্রতিবাদে বাংলায় স্লোগান তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গলা মেলান অন্যরা।