নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সরকারি সিমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণে। সরকারি নির্মাণ কাজের জন্য লরি বোঝাই সিমেন্ট সাইটে পাঠানো হলে মাঝপথেই তার একাংশ গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সেই সিমেন্ট পুলিসের একাংশের মদতে চলে যাচ্ছে অসাধু কারবারিদের গোডাউনে। সাধারণ মানুষ বাড়ি তৈরির জন্য সিমেন্ট কিনতে গেলে তাঁরা তা বেচে দিচ্ছেন কম দামে।
সম্প্রতি হাওড়ার ডোমজুড়ে এক ইমারতি সামগ্রীর কারবারির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ডোমজুড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা সমাজকর্মী প্রতাপ বসু। তাঁর কথায়, সাঁকরাইল থানা এলাকার আলমপুর মাকালতলায় বাড়ি নির্মাণ করছেন সঞ্জয় কোলে নামের এক ব্যক্তি। সেই নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি সিমেন্ট। প্রতাপবাবু বিষয়টি যাচাই করতে সঞ্জয়বাবুর বাড়িতে যান। গিয়ে দেখেন, সেখানে অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর পাশেই পড়ে রয়েছে বস্তা বস্তা সিমেন্ট। প্রতিটি বস্তাতেই লেখা ‘নট ফর রিটেইল-রিসেল’। ব্যক্তিগত কাজের জন্য এই সিমেন্ট পেলেন কোথায়, জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, ডোমজুড়ের নিউ কোড়লার বাসিন্দা এই সিমেন্ট ব্যবসায়ী থেকে কিনেছেন। এরপর নিজেই ক্রেতা সেজে ওই সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে ফোন করেন প্রতাপবাবু। প্রতাপবাবু বলেন, ‘ওই ব্যবসায়ী সরকারি সিমেন্ট বিক্রির কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি বস্তা পিছু ২৮০ টাকায় তা বিক্রি করেন। এও বলেন, প্রতি বস্তায় নাকি দশ টাকা করে ভাগ রয়েছে পুলিসের। এরপরই ডোমজুর থানায় গিয়ে আমি অভিযোগ জানাই। পুলিস কমিশনারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি।’
ব্যক্তিগত কাজে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিমেন্ট ব্যবহারকারী সঞ্জয় কোলে বলেন, ‘কম দামে সিমেন্ট পাওয়া যাবে শুনেছিলাম। যাচাই না করে সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রচুর সিমেন্টের বস্তা কিনেছি। এসব যে বেআইনি, তা বুঝতে পারিনি’। প্রতাপবাবুর দাবি, নিউ কোড়লা আউটপোস্টের কিছুটা দূরে একটি পেট্রল পাম্পের সামনে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর গাড়ি থেকে দেদারে সরকারি সিমেন্টের বস্তা নামানো হয়। পুলিসের একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে বেআইনি চক্রের রমরমা কারবার চলছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক সিমেন্ট ব্যবসায়ীর কথায়, যে কোনও সরকারি নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে সরাসরি বরাত দেওয়া হয় সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থাকে। সেক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট থেকে সিমেন্টের বস্তা সরাসরি পাঠানো হয় কনস্ট্রাকশন সাইটে। এর মাঝে কোনও ডিলার থাকে না। সেই সমস্ত সিমেন্টের বস্তায় ‘নট ফর রিটেইল-রিসেল’ লেখা থাকে। এ বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’