দীপেন্দু বিশ্বাস: বড় ম্যাচ তারকার জন্ম দেয়। আমার ফুটবল কেরিয়ারে তা অনেকটাই প্রযোজ্য। ১৯৯৭ সালে টিএফএ ছেড়ে মোহন বাগানে সই করি। তারকাসমৃদ্ধ দলে শুরুতে আমার ঠাঁই হয় রিজার্ভ বেঞ্চে। তার উপর ছিল চোটের থাবা। ঐতিহাসিক ডায়মন্ড ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। সেদিন অপমানের ভয়ে মুখে রুমাল বেঁধে কলকাতা থেকে ট্রেনে বসিরহাটে ফিরি।
চোট থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য বাড়িতেই শুরু হয় রিহ্যাব। আর কলকাতায় দল নিয়ে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অমল (দত্ত) স্যার। মোহন বাগানের আপফ্রন্টে চিমা, আব্দুল খালেকের মতো ফুটবলার। প্রথম দলে সুযোগ পাওয়াই কঠিন। বড় ম্যাচের ম্যাচের এক সপ্তাহ আগে ক্লাবের দুই কর্তা আমার বাড়িতে হাজির। বলেন, অমলদা ডেকে পাঠিয়েছে। সেই রাতেই বসিরহাট থেকে মোহন বাগানের মেসে পৌঁছই। মনে আছে, গা ঘামানো শেষের পর আলাদা করে হেড প্র্যাকটিস করাতেন অমলদা। অনুশীলনে বাসুদা আর অমিতদার কাজ ছিল সেন্টার তোলা। আর এই অধম হেড দিয়েই যেত।
লিগের ডার্বিতে প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি। ম্যাচ শেষের মিনিট ১৫ আগে মাঠে নামানো হয়। ৮১ মিনিটে বাসুদার সেন্টার থেকে আমার হেড এবং গোল। গ্যালারিতে কানফাটানো ‘গোওওওল’ আওয়াজ কখনও ভুলব না। পরের ৭টি ম্যাচে ১২টি লক্ষ্যভেদে লিগের সর্বাধিক গোলদাতা হই। জাতীয় লিগের দু’টি ডার্বিতেই আমার গোল ছিল। ফেডারেশন কাপে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সঙ্গেই নিজেকে মেলে ধরার মঞ্চ পেয়েছিলাম। রবিবার আরও এক বড় ম্যাচ। একাধিক ম্যাচ উইনারের উপস্থিতির কারণে মোলিনা ব্রিগেডই ফেভারিট।