নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার ভরসন্ধ্যায় আগুন লেগেছিল বারাসতের কদম্বগাছিতে ২৫ বিঘা জমির উপর থাকা একাধিক গোডাউনে। তারপর কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ছে লেলিহান শিখা। দমকল কর্মীরা বলছেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন পকেটে এখনও ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছে। মাঝেমধ্যে সেই আগুন জ্বলে উঠছে দাউদাউ করে। ধোঁয়া উঠছে কুণ্ডলী পাকিয়ে। এই অবস্থায় বিশাল একটি টিনের ছাউনি আগুনের তাপে ভেঙে পড়ায় দমকল কর্মীদের কাজ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আগুন লাগে দত্তপুকুর থানা এলাকার ওই চত্বরে। সেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে আটটি বড়সড় গুদাম বা স্টক রুম। কোনও গোডাউনে মজুত থাকত বৈদ্যুতিন সামগ্রী, কোনওটায় রংয়ের মতো দাহ্য রাসায়নিক। শিশুদের ন্যাপকিনের গোডাউনও ছিল সেখানে। এদিন গোডাউন বন্ধ করার সময় কর্মীরাই প্রথম আগুন দেখতে পান ন্যাপকিনের গোডাউনে। দমকল এসে পৌঁছনোর আগে তাঁরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তাতে অবশ্য খুব একটা সুবিধা হয়নি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য গোডাউনে। পুলিস ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও কর্মীরা কেউ তার ব্যবহার জানতেন না। এ সংক্রান্ত কোনও প্রশিক্ষণও ছিল না তাঁদের। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে স্থানীয়দের অনেকে অগ্নি নির্বাপণের যন্ত্রগুলি আদৌ কার্যকর ছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। রবিবার তাঁরা জানান, ন্যাপকিনের গুদাম থেকে আগুন প্রথমে ছড়ায় বৈদ্যুতিন সামগ্রীর গোডাউনে। এরপর আগুন ধরে যায় রংয়ের গুদামে। তারপর আর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও উপায় ছিল না। কারণ, পরিস্থিতি ততক্ষণে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফলে আগুনের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেননি দমকল কর্মীরাও। রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন দমকলের ডিজি। তাঁর সঙ্গে আসে বিশাল পুলিস বাহিনী ও র্যাফ। রাতভর চলে আগুন নেভানোর কাজ। রবিবারও দেখা গেল, দমকলের ১০টি ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা। কোটি কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে বলে খবর। গোডাউনের মালিক ইন্দ্রজিৎ ঘোষ বলেন, ‘আমি ২০১৫ সালে গোডাউনটি তৈরি করি। বিভিন্ন কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়া আছে। এখানে মূলত বিভিন্ন সামগ্রী স্টক হতো। শনিবার রাতে কর্মীরা গোডাউন বন্ধ করার সময় আগুন দেখতে পান। মজুত থাকা রংয়ে আগুন লেগে যাওয়ার পর আর সামাল দেওয়া যায়নি।’ তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা নিয়ে এখনই স্পষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেননি তিনি। তবে জানিয়েছেন, এখানে ৪০০ জনের বেশি কর্মী কাজ করতেন। পুলিসের কাছে তিনি ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বারাসতের মহকুমাশাসক সোমা দাস, স্থানীয় বিধায়ক (দেগঙ্গা) রহিমা মণ্ডল, বারাসত ১ ব্লকের বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী, বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস। বিধায়ক রহিমা মণ্ডল বলেন, ‘এটা একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। এতবড় একটি গোডাউন রয়েছে, আমি জানতাম না। কীভাবে এটা চলছিল, জানা হবে। এলাকার মানুষ যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে।’ উত্তর ২৪ পরগনার দমকল বিভাগের আধিকারিক (কন্ট্রোল) পুলক শর্মা বলেন, ‘আগুন আপাতত অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিছু পকেটে আগুন রয়েছে। কাজ চলছে।’ এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি অভিযোগ করেছেন থানায়। পুলিস নিজেও একটি মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।