শীতলকুচি, টোটন বর্মন: এবছর দুর্গাপুজোয় তিনটি বিশেষ থিম দিয়ে চমক দিতে চলেছে গোঁসাইরহাট পশ্চিমপাড়া মিলন সঙ্ঘ দুর্গাপুজো কমিটি। রবিবার খুঁটিপুজো ও বৃক্ষরোপণের মধ্যদিয়ে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মাথাভাঙা মহকুমার অন্যান্য পুজোগুলির পাশাপাশি সকলের নজর থাকে গোঁসাইরহাট পশ্চিমপাড়া মিলন সঙ্ঘের দুর্গাপুজোয়। গোঁসাইরহাট হাইস্কুলের মাঠে পুজো হয়। এবছর তাদের পুজোর ৫৭তম বর্ষ। অন্যান্য বছরগুলির মতোই এবারও পুজো প্যান্ডেল, থিম, প্রতিমা ও আলোকসজ্জায় থাকছে বিশেষ চমক।
ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রথম থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাটির মা’। জঙ্গলমহলের কিছু ঝলক, গ্রাম বাংলার দুর্গাপুজো, হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পের সৌন্দর্য্য ফুটে উঠবে এই থিমে। দ্বিতীয় থিম ‘দৌড়’। মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত এক লক্ষ্য থেকে অন্য লক্ষ্যে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে পৌঁছনোর জন্য যে লড়াই সেটাই হল ‘দৌড়’। জীবনে কষ্ট করে বিভিন্ন কৌশলে সাফল্যে পৌঁছনোর লড়াই হল দৌড়। একটি বিশেষ থিমে তা ফুটিয়ে তোলা হবে। তৃতীয় থিম ‘নানান ধরনের আলোকসজ্জার সমাহারে সমারোহ ও আলোক নগরীর আলোক সজ্জার সৌন্দর্য্য’। প্রতিমা ও মৃৎশিল্পের সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলবেন প্রসিদ্ধ মৃৎশিল্পীরা কণ্ঠেশ্বর বর্মন, কাজল বর্মন, ধীরু বর্মন, জয়ন্ত পাল, নিরঞ্জন পাল ও তাঁদের দল। রাস্তা ও প্যান্ডেল জুড়ে থাকবে চন্দননগরের আলোকসজ্জা।
১৯৬৯ সালে শুরু হয় গোঁসাইরহাট পশ্চিমপাড়া মিলন সঙ্ঘের দুর্গাপুজো। এবছর পুজো কমিটির সভাপতি শ্রীমন্ত সাহা, সহ সভাপতি শ্যামসুন্দর সাহা ও মানিক সাহা। সম্পাদক বাপী রায় ও সহ সম্পাদক অর্জুন সাহা, শিবা সাহা, আদিত্য সাহা ও জয় সাহা। এছাড়াও কোষাধক্ষ্য সীমান্ত পাল ও সহ কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন জগন্নাথ সাহা ও অভিজিৎ সাহা। পুজো কমিটির তরফে জগন্নাথ সাহা বলেন, প্রত্যেক বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। এবছর আমাদের ২০ লক্ষ টাকা বাজেট। পুজোর কয়েকদিন মেলা বসে। পুজো উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ, বস্ত্র বিতরণ, গ্রামের দুঃস্থ অসহায়দের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। আশা করি এবছরও আমদের পুজো সবার মন জয় করবে। - নিজস্ব চিত্র।