Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলির সাট্টা ডনের উত্তরপাড়ার বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত দেড় কোটির সোনা, নগদ ১২ লক্ষ

হুগলির সাট্টা ডনের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল দেড় কোটি টাকার সোনার গয়না। সঙ্গে মিলেছে সাড়ে ১২লক্ষ নগদ টাকা।

হুগলির সাট্টা ডনের উত্তরপাড়ার বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত দেড় কোটির সোনা, নগদ ১২ লক্ষ
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির সাট্টা ডনের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল দেড় কোটি টাকার সোনার গয়না। সঙ্গে মিলেছে সাড়ে ১২লক্ষ নগদ টাকা। চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের ওই ঘটনাকে ঘিরে বুধবার রাতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির উত্তরপাড়াতে। জানা গিয়েছে, সাট্টা ডন সঞ্জয় মজুমদার ওরফে বাপি’র বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় পুরনো অভিযোগ আছে। হাওড়া থেকে উত্তরপাড়া, রিষড়া পর্যন্ত বিস্তৃত  এলাকার সাট্টা, জুয়া নিয়ন্ত্রণ করত বাপি। পাশাপাশি, হাওড়া-হুগলির পরিচিত সমাজবিরোধী কুখ্যাত গ্যাংস্টার রমেশ মাহাতা’র বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। তবে রাতের অভিযানে সাট্টা ডনকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তার ভাই ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে  বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হয়।

Advertisement

উত্তরপাড়ার হিন্দমোটরে চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অবশ্য সহজ হয়নি। রাতে পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলেছে বুঝে সাট্টা ডনের সঙ্গীরা টাকা ও সোনার গয়না বাড়ির জানালা ও ছাদ থেকে ছুড়ে দেয়। পাশাপাশি, পোষ্য দুই কুকুর দিয়ে পুলিশ বাহিনীর বাড়িতে ঢোকা আটকানোর চেষ্টাও চলে। অনুগামীদের ভিড় বাড়িয়ে পুলিশকে বাধা দেওয়ার প্রয়াস হয়েছিল। যদিও শেষপর্যন্ত কোনও বাধাই পুলিশি অভিযানকে আটকাতে পারেনি। সোনার গয়না, নগদ টাকা, সাট্টার প্যাড সহ নানা জিনিস পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। চন্দননগর কমিশনারেটের ডিসিপি(গোয়েন্দা বিভাগ) রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, সঞ্জয় মজুমদারের বাড়িতে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান করা হয়। সেখান থেকে আমরা নগদ সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা, ১ কেজি ৫৩১ গ্রাম সোনার গয়না, সাট্টা ও জুয়াসংক্রান্ত কাগজপত্র পেয়েছি। সঞ্জয় ওরফে বাপি’র ছেলে বিশাল মজুমদার ও ভাই সুব্রত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৮ জনের নামের একটি তালিকা আমরা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধেও নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সাট্টা-জুয়া চালানোর পুরনো অভিযোগ আছে। কুকুর দিয়ে প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও বাড়িতে কুকুর পোষা অপরাধ নয়। কুকুরের কিছু স্বাভাবিক আচরণ থাকে। তবে ঘটনার সময় এলাকায় ভিড় হয়েছিল। আমরা সমস্ত কিছুর উদ্দেশ্যই খতিয়ে দেখছি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের কিছু আগেও পরদিনের সাট্টা ব্যবসার নথিপত্র তৈরির কাজ চলছিল। তবে পুলিশকে বিস্মিত করেছে বিপুল সংখ্যায় সোনার গয়নার উপস্থিতি। প্রায় দেড় কেজি সোনার গয়না সাট্টা ডন কেন মজুত করেছিল, তা গোয়েন্দা কর্তারা খতিয়ে দেখতে চাইছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমবয়সি ছেলেদের নিজের ব্যবসায় জুটিয়েছিল সাট্টা ডন। রমেশ মাহাত’র হাত মাথায় থাকায় বিরাট এলাকাজুড়ে বাপি নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিল। সেই বিরাট নেটওয়ার্ককেও পুলিশ তদন্তের আওতায় রাখছে।  উদ্ধার হওয়া নগদ ও গয়না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ