নয়াদিল্লি: চোটের জেরে প্রায় ডুবতে বসেছিল স্বপ্ন। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভিওয়ানির লড়াকু কন্যা। কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে দেশে ফেরার পর বিরাট কোহলিকে কৃতজ্ঞতা জানালেন সাক্ষী চৌধুরি। বক্সিংয়ে মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগে তাঁর সেরার মুকুট জয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের যে বড়ো অবদান রয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করলেন ২২ বছরের বক্সার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কেরিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কোহলির সংস্থাকে স্পনসর হিসাবে পাশে না পেলে তাঁর পক্ষে এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হত না।
গ্লাসগো গেমসে স্বপ্নের প্রত্যাবর্তনের কাহিনি লিখেছেন সাক্ষী। আসলে চোটের কারণে একটা সময় ঘোর অন্ধকারে ঢেকেছিল তাঁর বক্সিং কেরিয়ার। তার জেরে নামতে পারেননি ২০২২ কমনওয়েলথ গেমস ও ২০২৩ এশিয়ান গেমসে। জীবনের সেই কঠিনতম সময়ে সাক্ষীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ‘বিরাট কোহলি ফাউন্ডেশন’। শুধু তাই নয়, সদ্যসমাপ্ত গ্লাসগো গেমসের ফাইনালে নামার আগে বিরাটের বার্তাও উজ্জীবিত করে তাঁকে। চাপ না নিয়ে শান্ত মাথায় সেরাটা মেলে ধরার সেই পরামর্শই সাক্ষীকে রিংয়ে ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল। ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে ৫-০ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জয়ের পর রীতিমতো রোমাঞ্চিত সাক্ষী। কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই পুরো যাত্রাপথে বিরাট কোহলি আমাকে পূর্ণ সাহায্য করেছেন। স্পনসর হিসাবে পাশে থাকার পাশাপাশি মূল্যবান পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তাঁকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে বলব বিজেন্দর সিংয়ের কথাও। তাঁকে দেখেই তো আমি বক্সিং শুরু করেছিলাম।’
বছর দুয়েক চোট সারিয়ে ওঠার পর নিজের ওয়েট ক্যাটাগরি ৫৪ কেজি থেকে ৫১ কেজিতে নামিয়ে আনেন সাক্ষী। সেই সিদ্ধান্তই হয়ে দাঁড়ায় কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বলেন, ‘বিভাগ বদলের পর অনেকেই আমাকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আশা ছিল যে, আমি স্বর্ণপদকই জিতব। তাঁদের কথা দিয়েছিলাম, গেমসে একশো শতাংশ উজাড় করে দেব। সেই কথা রাখতে পেরে আমি খুশি।’ সাক্ষী আরও জানান, পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনাটা ছিল স্বপ্নের আকাশে ভাসার মতো ব্যাপার। তাঁর কথায়, ‘জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তেরঙা উপরে উঠতে দেখে মনে হচ্ছিল স্বপ্নের ঘোরে রয়েছি। আমার সাফল্যে বিদেশের মাটিতে জাতীয় সঙ্গীত বাজছে ভেবেই আবেগে চোখে জল চলে আসছিল। দেশের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। সাফল্য পেলে গর্বে বুক ভরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।’
গ্লাসগো গেমসে এবার রীতিমতো ঝড় তুলেছে ভারতীয় বক্সিং দল। ৭টি সোনাসহ ১০টি পদকই তার নিদর্শন। আর সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম মুখ সাক্ষীর নজর এবার আসন্ন এশিয়ান গেমসেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করা।