নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুই হাত দু’পাশে মেলে, ডাইনে-বাঁয়ে শরীর দোলাতে দোলাতে সমর্থকদের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন সায়ন ব্যানার্জি। ডানা মেলা পাখির মতো স্বপ্নের উড়ান যেন আকাশ ছুঁতে চায়। তাঁর গোলেই যে আট বছর পর ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন মোহন বাগান! জোড়া গোলের সুবাদে সাহাল ম্যাচের সেরা হলেও এই জয়ের আসল মালা তো সায়নের গলাতেই। কাজটা কতটা কঠিন ছিল? শিরোপা নির্ণায়ক মিনি ডার্বিতে তিনি মাঠে নামার সময় মোহন বাগান পিছিয়ে ১-২ ব্যবধানে। সাহালের গোলে সমতা ফেরার চার মিনিটের মধ্যে মহমেডানের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন সায়ন। তরুণ উইঙ্গারের দুরন্ত লক্ষ্যভেদে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে সবুজ-মেরুন গ্যারারির। তবে দলের সেলিব্রেশনে শামিল হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। আসলে রেলের হয়ে অফিস ম্যাচ খেলতে রাতের বিমানেই চেন্নাইয়ে উড়ে যেতে হয় সায়নকে। এদিন মুঠোফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘পরিবর্ত হিসাবে যখন মাঠে নামলাম, তখন পিছন ফিরে তাকানোর অবকাশ ছিল না। চাপ নয়, তাগিদই আমায় তাতিয়ে দিয়েছিল। কোনো পরিস্থিতিতে সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি।’
ময়দানে সায়নের কেরিয়ার মাত্র বছর পাঁচেকের। ইতিমধ্যেই কলকাতা লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক সেরে ফেললেন তিনি। ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে গত দু’মরশুমে ট্রফি জয়ের পর এবার সবুজ-মেরুন জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন। সায়নের কথায়, ‘যে দলের জার্সিতেই হোক, চ্যাম্পিয়ন হওয়া সব সময় স্পেশাল। তাই বলে আত্মতুষ্টিকে প্রশয় দিই না। আমার কাজ ছন্দ বজায় রাখা। সেই চেষ্টা করি। একটা দল সাফল্য পায় দলগত পারফরম্যান্সে।’ এবার লক্ষ্য আইএফএ শিল্ড। তারপর আইএসএল। লাল-হলুদ জার্সিতে দেশের সর্বোচ্চ লিগে অভিষেক হলেও সেভাবে ম্যাচ টাইম পাননি। তাই এবার সবুজ-মেরুন জার্সিতে তাঁর সামনে কঠিন পরীক্ষা। তবে সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ সায়ন। তাঁর উক্তি, ‘সিনিয়র দলে নিয়মিত হয়ে ওঠাই আসল লক্ষ্য। সুযোগ পেলে অবশ্যই তা কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে।’
এদিকে, রবিবার আইএফএ শিল্ডের প্রস্তুতি শুরু করে দিল মোহন বাগান। ঘরের মাঠে অনুশীলনে হাজির ছিলেন ম্যাকলারেন, আলবার্তো, সুহেলরা। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পর টিম কম্বিনেশনে জোর দেন কোচ পানোস। এরপর ম্যাচ সিচুয়েশনে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সকল ফুটবলারকেই পরখ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, বুধবার শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে শিল্ডে অভিযান শুরু করবে মোহন বাগান।