Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুইসাইড নোট লিখে গঙ্গায় ঝাঁপ স্বর্ণবিপণি কর্মীর

কর্মস্থলে জটিলতাকে দায়ী করে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন এক তরুণী। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার দুপুরে হুগলির চন্দননগরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাত পর্যন্ত ওই তরুণীকে উদ্ধার করা যায়নি।

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুইসাইড নোট লিখে গঙ্গায় ঝাঁপ স্বর্ণবিপণি কর্মীর
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কর্মস্থলে জটিলতাকে দায়ী করে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন এক তরুণী। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার দুপুরে হুগলির চন্দননগরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাত পর্যন্ত ওই তরুণীকে উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনার পরপরই গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। কিন্তু ওই তরুণীর কোনও হদিশ মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই তরুণীর নাম মানালি ঘোষ। বছর পঁচিশের ওই তরুণী চন্দননগরের বউবাজার বটতলার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি স্বর্ণবিপণিতে তিনি সেলসের কাজ করতেন। এদিন গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি স্ট্রান্ড রোডে কিছু সময় বসেছিলেন। সেখানেই একটি সুইসাইড নোট লিখে তা মোবাইলে চাপা দিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। পরিবারের দাবি, সুইসাইড নোটে ওই তরুণী তাঁর কর্মস্থলের একাধিক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছেন। 

Advertisement

গঙ্গায় তল্লাশির পাশাপাশি চন্দননগর পুলিশের একটি দল ওই স্বর্ণবিপণিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়েছিল। সেখান থেকে একজনকে আটকও করেছে। গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ ওই স্বর্ণবিপণিতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে ঠিক হয়েছিল মানালির। এদিন স্ট্র্যান্ডে রোডে বসে তিনি তাঁর হবু স্বামীকে ফোনও করেছিলেন। তবে সত্যজিৎ রায় নামের ওই যুবক ঘটনাস্থলে আসার আগেই তিনি গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। মানালির বাবা মানস ঘোষ বলেন, কাজের জায়গায় মেয়ের উপর মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলব ভেবেছিলাম। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। দোকানের মালিক ও তাঁর স্ত্রী মিলে আমার মেয়েটাকে মেরে দিয়েছে। ওদের শাস্তি চাই। মানালির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিনদিন ধরে তিনি মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। দিনকয়েক আগে দোকানের বাইরে তাঁকে কান্নাকাটিও করতে দেখেছেন অনেকে। সেসব থেকেই ওই স্বর্ণবিপণির কর্তাদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠছে। এদিন গঙ্গার ঘাটে এসেছিলেন মানালির হবু স্বামীর দাদা শুভজিৎ রায়। তিনি বলেন, ভাই একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। সে আমাকে ফোন করে জানায় যে, মানালি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। আমি ছুটে চলে আসি। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি শুনেছি, এদিন আমার ভাইয়ের হবু স্ত্রীকে দিয়ে ‘পদত্যাগপত্র’ লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কথা মানালিকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়। তারপরেই তিনি হবু স্বামীকে ফোন করে বলেন, চাকরিটা আর নেই। আত্মহত্যার কথাও বলেন। সত্যজিৎ তাঁর সঙ্গে কথা বলে বোঝাতে চেয়েছিলেন। মানালিকে বলেন, আমি স্ট্র্যান্ড রোডে বসে আছি। একটু পরে ফের ফোন করেন ওই যুবক। একটি পুরুষ কণ্ঠ তখন তাঁকে জানায়, মানালি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছেন। ফোন ও সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ