নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কর্মচারির গলায় ঠেকানো ভোজালি। ভয়ে চিৎকার করে উঠতেই সজোরে এক ঘুসি এসে পড়ল তাঁর নাকে। শুরু হল গলগল করে রক্তপাত। তারপর ওই কর্মচারীর হাত বেঁধে সোনার দোকানটিতে চলল ব্যাপক লুটপাট। বুধবার ভরদুপুরে এই দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার কালিকাপুর ২ পঞ্চায়েতের সাহেবপুরে। পালানোর সময় সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক খুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে তার অদূরেই কালিকাপুর ২ পঞ্চায়েত অফিস। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সোনারপুর থানার পুলিস ও বারুইপুর পুলিস জেলার পদস্থ কর্তারা। দোকান মালিকের প্রাথমিক অনুমান, কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না লুট হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর আনুমানিক দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে বাইকে করে হেলমেট পরে এক যুবক দোকানে এসে রুপোর গয়না দেখতে চান। তখন দোকানে একাই ছিলেন শম্ভুনাথ চৌধুরী নামে ওই প্রবীণ কর্মচারী। দামে পোষায়নি বলে ওই ক্রেতা তখনকার মতো বেরিয়ে যান। এরপর দুপুরে বাড়ি যাবেন বলে দোকানের শাটার নামিয়ে তালাবন্ধ করছিলেন তিনি। ঠিক তখনই ওই যুবক আবার ফিরে এসে বলেন, রুপোর গয়নাটি তিনি নেবেন। তা শুনে শম্ভুনাথবাবু দোকান খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। এদিকে, ওই যুবক ঢুকতেই তার পিছু পিছু আরও দু’জন ঢুকে পড়ে। প্রত্যেকের মাথায় ছিল হেলমেট, যাতে সহজে চেনা না যায়।
শম্ভুনাথ পরে জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন ভোজালি বের করে আমার গলার কাছে ধরে। আমি চিৎকার করি। তখন ওরা মারধর শুরু করে আমাকে। এরপর হাত বেঁধে আমাকে মেঝেতে শুইয়ে দেওয়া হয়। তারপর শো কেসে থাকা যাবতীয় গয়না ব্যাগে ভরে চম্পট দেয় ডাকাতরা। দুষ্কৃতীরা চলে যেতেই ফের চিৎকার শুরু করেন শম্ভুনাথবাবু। তা শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে চলে আসেন দোকানের মালিক ও তাঁর বাড়ির লোকজনও। আহত কর্মচারীকে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সূত্রের খবর, যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন দোকান মালিক অজয় মণ্ডল একটি নিমন্ত্রণ বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার মধ্যেই পুরো ‘অপারেশন’ চলেছে। তবে এই প্রথম নয়, ২০২১ সালেও এই দোকানে একবার ডাকাতি হয়েছিল। তবে সেবার দোকান বন্ধ হওয়ার পর রাতে শাটার ভেঙে দুষ্কৃতীরা সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছিল। অজয়বাবু বলেন, দোকানে সাজানো গয়নাই নয়, ভল্টে থাকা গয়নাগাটিও লুট করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এখনও পর্যন্ত যা হিসেব করা গিয়েছে, তাতে প্রচুর টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, তদন্ত করতে গিয়ে পুলিস বিভিন্ন সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে তিনজন দুষ্কৃতীর ছবি পেয়েছে। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও শুরু করেছে তারা।
অন্যদিকে, দিনেদুপুরে জনবহুল এলাকায় সোনার দোকানে লুটপাটের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। আরও বেশি করে পুলিসি টহলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পঞ্চায়েত প্রধান তাপস বিশ্বাস বলেন, দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটছে! বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।