চোখের নিমেষে গায়েব সোনার গয়না, গ্রেপ্তার ‘কুখ্যাত’ গৃহবধূ , দুই জেলায় বহু অপরাধ  জামিনের পর থেকেই খুঁজছিল পুলিশ
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কথাবার্তায় চোস্ত! পোশাকে মার্জিত। ক্রেতা সেজে ঢোকার পর স্মার্ট চালচলনে বোকা বানাতেন দোকানদারকে। তারপর চোখের নিমেষে হাত সাফাই। দামি সোনার অলংকার হাতের কারসাজিতে সবার অলক্ষে চালান করে দিত পোশাকে। এভাবেই বছরের পর বছর দোকানে ঢুকে সে গায়েব করছিল সোনার অলংকার। দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর শেষমেশ সোনারপুরে গ্রেপ্তার হল গৃহবধূ। নাম তাপসী দাস।          
ধৃতের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। সপ্তাহ খানেক আগে রাজপুর বাজারে একটি সোনার দোকানে চেন চুরি গিয়েছিল। সেই অভিযোগ থানায় দায়ের হওয়ার পর পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক মহিলাকে চিহ্নিত করে। পরে খোঁজ খবর করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মহিলার নাম তাপসী। শুরু হয় তদন্ত। সেটা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই মহিলার বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় এভাবে হাত সাফাইয়ের অভিযোগ আছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া থানায় এফআইআর রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বিভিন্ন জায়গায় একই কায়দায় হাত সাফাই করে। দুই জেলার পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল তাকে। সেই সব জায়গায় যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। অবশেষে বিভিন্ন সূত্র ধরে মঙ্গলবার সোনারপুর থানার পুলিশ তাকে পাকড়াও করে বারাসত থেকে। পরে তার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনার চেন উদ্ধার করেছে।

Advertisement

 
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বয়স বছর তিরিশেক। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে সোনার দোকানকে টার্গেট করত ওই বধূ। যে এলাকায় সে হাত সাফাই করত, সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত কিছুদিন। গোটা এলাকা ঘুরে বোঝার চেষ্টা করত, কোন দোকানে ভিড় বেশি হয়। দোকানে ভিড় বেশি দেখলেই ঢুকে পড়ত। গয়না দেখতে চাইত। কথাবার্তার ফাঁকে পোশাকে লুকিয়ে নিত গয়না। তারপর বাকিগুলো ফেরত দিয়ে দিত। গৃহবধূর কথার ধরন দেখে সন্দেহ করত না কেউই। সোনারপুরের দোকানেও তেমনই ঘটেছিল। অলংকার দেখার নাম করে একটি চেন হাতিয়ে চম্পট দিয়েছিল সে।  দোকান থেকে সোনার গয়না হাতিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতেন তিনি। এটাই ছিল তার রোজগারের পথ। এর আগে একবার মধ্যমগ্রামে একটি সোনার দোকানে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিল তাপসী। পরে জামিন পায়। ফের একই কারবার শুরু করে। যদিও মহিলার পরিবারের খোঁজ পায়নি পুলিশ। তবে সে একা না তার সঙ্গে কেউ যুক্ত আছে, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অনুমান, একা এসব করা সম্ভব নয়। ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।   নিজস্ব চিত্র