সোনার দাম আকাশ ছুঁলেও বিয়ের সাজে সোনার গয়নার কদর খুব একটা কমেনি, জানালেন বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
সোনার দাম আকাশ ছুঁলেও বিয়ের সাজে সোনার গয়নার কদর খুব একটা কমেনি, জানালেন বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
ওয়েস্টার্ন ডিজাইন
এখন মেয়েরা নানারকম পোশাকে স্বচ্ছন্দ। শাড়ি বা কুর্তির পাশাপাশি ট্রাউজার, স্কার্ট ইত্যাদিও তাঁদের পরনে ওঠে। তাই গয়নার ক্ষেত্রে নকশায় বদল আসবে সেটাই স্বাভাবিক। ডিজাইনে স্টিক, স্পাইরাল, বল, চেন ইত্যাদি চোখে পড়ছে আজকাল। সরু নেকলেস কাঠি কাঠি নকশায় গাঁথা, তার সঙ্গে কানে ছোট্ট টপ। অথবা হাতের বালায় অ্যাসিমেট্রিক ডিজাইন, এসব এখন বিয়ের গয়নায় হামেশাই নজরে পড়ে। ফলে বিয়ের গয়না আর সীতাহার, কানপাশা, বালা, বাউটিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এসেছে স্টিক নেকলেস, অ্যাসিমেট্রিক পেনডেন্ট, লম্বা দুল।
পাথর সেটিং
বিয়ের গয়নায় পাথর সেটিং হাল আমলের ফ্যাশন। তার কারণ হিসেবেও বিদেশি পোশাকের বাহুল্যকেই দায়ী করছেন স্বর্ণ কারিগররা। তাঁদের মতে, বিদেশি পোশাক, ফিউশন পোশাক, সবকিছুতেই পাথর সেটিং খুব ভালো মানায়। এখন বিভিন্ন রঙের পাথর পাওয়া যায়, অনেকেই পোশাকের রঙের কথা মাথায় রেখে গয়নায় পাথর সেটিং করেন। কিছু বিদেশি রং, যেমন হালকা গোলাপি, টিল, পিকক ব্লু, ফুশিয়া অরেঞ্জ গয়নায় জনপ্রিয়। তাছাড়া অনেক বলিউডি কনেও এখন বিয়ের গয়নায় পাথর সেটিং করাচ্ছেন। সেই দেখাদেখিও আধুনিকাদের মনে পাথর সেটিংয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে।
হীরের চমক
বিয়ের গয়নায় হীরের কদর নাকি বাড়ছে। অন্তত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের তেমনটাই বক্তব্য। অনেকেই এখন রিসেপশনের দিন একটা চওড়া নেকলেস পরতে ভালোবাসেন। আর সেই নেকলেসটিতে থাকে হীরের চমক। তার সঙ্গে মিলিয়েই তৈরি হয় হিরে বসানো ব্রেসলেট আর কানের দুল। এছাড়াও বিয়ে সংক্রান্ত কিছু গয়না রয়েছে যেখানে হীরে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন লোহা বাঁধানো, মঙ্গলসূত্র, আংটি, ছেলের পাঞ্জাবির বোতাম ইত্যাদি। লোহার মুখের কাছে একটা হীরে বসাতে চাইছেন এযুগের শাশুড়িরা। মঙ্গলসূত্রের লকেটেও সেই একই চাহিদা। আংটির ক্ষেত্রে সলিটেয়ার ডায়মন্ড খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ছেলের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও সোনা দিয়ে বাঁধানো হীরের বোতামের কদর বাড়ছে।
জড়োয়া ও মিনেকারির কাজ
এখন অনেক মেয়েই বিয়ের দিন শাড়িতে সাজেন আর রিসেপশনে পরেন লেহেঙ্গা। তাঁদের খাস পছন্দ মিনের কাজের গয়না। লেহেঙ্গার সঙ্গে মানানসই রঙের মিনেকারি কাজ তাঁরা চাইছেন গয়নায়। আর জড়োয়ার ক্ষেত্রেও পাথরের রং মিলিয়ে লেহেঙ্গা বানাচ্ছেন রিসেপশনের জন্য। আজকাল অনেকেই হাতের গয়নার ক্ষেত্রে একটু চুজি। তাঁরা রিসেপশনে হাতের বালার বদলে একটা বড় স্টেটমেন্ট রিং পছন্দ করেন। সেটাতে আবার জড়োয়ার কাজ থাকে।
সাজের ধরন যুগে যুগে বদলায়, জানালেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। সেই মতোই তাঁরা গয়নার নকশা বদল করেন। এই মুহূর্তে হয়তো একটু ওয়েস্টার্ন ফিনিশ, অ্যান্টিক লুক ইত্যাদি চলছে আবার ভবিষ্যতে সাবেকি গয়না যে বাজার মাত করবে না সে কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না।