Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালজয়ী ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘অগ্নীশ্বর’-এর শ্যুটিং, বর্তমানে বেহাল সত্যনারায়ণের বাড়ি, উত্তমকুমারের স্মৃতি আঁকড়ে গোহালপোতা

বাঙালির কাছে মহানায়ক উত্তমকুমার এখনও যে কতটা জনপ্রিয় তা একটি ঘটনাতেই পরিষ্কার বোঝা যায়। বাংলার একটি গ্রাম পরিচিত ‘উত্তমের গ্রাম’ শুধুমাত্র এই নামে।

কালজয়ী ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘অগ্নীশ্বর’-এর শ্যুটিং, বর্তমানে বেহাল সত্যনারায়ণের বাড়ি, উত্তমকুমারের স্মৃতি আঁকড়ে গোহালপোতা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু  হাওড়া: বাঙালির কাছে মহানায়ক উত্তমকুমার এখনও যে কতটা জনপ্রিয় তা একটি ঘটনাতেই পরিষ্কার বোঝা যায়। বাংলার একটি গ্রাম পরিচিত ‘উত্তমের গ্রাম’ শুধুমাত্র এই নামে।

Advertisement

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল গোহালপোতা। সে গ্রামটির নামই হয়ে গিয়েছে উত্তমকুমারের স্মৃতিতে। ভোজ্য তেলের ব্যবসায়ী সত্যনারায়ণ খাঁ এখানকার বাসিন্দা ছিলেন । তিনি সিনেমার প্রযোজনা করতেন। তাঁর বাড়ি একাধিক ছবির শ্যুটিং করতে এসেছিলেন মহানায়ক। এখনও তাঁর জিনিসপত্র, আসবাব সংরক্ষিত রাখা বাড়িটিতে। সত্যনারায়ণ তৈরি করেছিলেন চণ্ডীমাতা ফিল্মস। সে সূত্রে সখ্যতা উত্তমকুমারের সঙ্গে। তাঁর প্রযোজনায় বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মহানায়ক। 
শ্যুটিংয়ের প্রয়োজনেই ১৯৬৯ সালে গোহালপোতায় তিনতলা বাড়ি তৈরি করেন সত্যনারায়ণ। বিদ্যুৎ সংযোগ, আধুনিক বাথরুম, ইনডোর শ্যুটিংয়ের জন্য বড় আকারের ঘর তৈরি করেন। সে বছরই ঠিক হল ‘কমললতা’ ছবির শ্যুটিং হবে নতুন বাড়িতে। আর গ্রামে পা রাখলেন উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, পাহাড়ি সান্যাল। সেই যে শুরু হল তারপর একে একে ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘হার মানা হার’, ‘বনপলাশীর পদাবলী’, ‘অগ্নীশ্বর’, ‘প্রতিশোধ’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’। একের পর এক কালজয়ী সিনেমা। পর্দায় দর্শকরা দেখতেন সাজানো দালানবাড়ি, গ্রাম্য মেঠো পথ, ফুটবলের মাঠ, কানা দামোদর, টেরাকোটার প্রাচীন মন্দির ইত্যাদি। ১৯৮০ সালে ‘প্রতিশোধ’ সিনেমা করতে শেষবার আসেন মহানায়ক। তিনি যতবার খাঁ বাড়িতে শ্যুটিং করতে আসতেন ততবারই ভিড়ে ভেঙে পড়ত গোহালপোতা। ফলে দোকানদাররা চলে আসতেন। দস্তুরমতো বসে যেত মেলা। সে স্মৃতি আজও হাতড়ে যান গ্রামের প্রবীণরা।
সত্যনারায়ণ খাঁর মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে শেষবার ওই বাড়িতে শ্যুটিং হয়। তারপর একে একে তাঁর দুই পুত্রের মৃত্যুর পর ব্যবসা তলানিতে ঠেকে। বন্ধ হয় চন্ডীমাতা ফিল্মসও। এখন খাঁ বাড়ির বড় বউ মৃদুলাদেবী তিনমাস অন্তর কলকাতা থেকে গ্রামে যান। দিনকয়েক থাকেন। তিনি এখন ৭৫ ছুঁইছুঁই। তিনি গিয়ে মহানায়কের স্মৃতি বিজরিত আসবাব থেকে ধুলো ঝাড়েন। পালঙ্ক, ড্রেসিং টেবিল, কাপ-প্লেট ইত্যাদির যত্ন করেন। বললেন, ‘উত্তমবাবু বিয়েতে এসেছিলেন। তারপর শ্যুটিংয়ে অন্তত দশবার এসেছেন এই বাড়িতে। এসে দোতলার কোণার ঘরটিতে থাকতেন। লোকে বলে তাঁর হাসি ভুবনভোলানো। আজও সে হাসি চোখের সামনে ভাসে।’ তিনি জানান, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুখেন দাস, সুচিত্রা সেন, সুমিত্রাদেবী, রাখি গুলজার, জয়া ভাদুড়িও এসেছেন বাড়িতে। মৃদুলাদেবী আক্ষেপ করে বলেন, ‘কতদিন এসব রাখতে পারব জানি না। সংরক্ষণের জন্য কেউ কোনওদিন উদ্যোগ নিলেন না।’ জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে রাজ্য পর্যটন দপ্তর গ্রাম ঘিরে উত্তম পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তা হয়নি। গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘উত্তমকুমারের একটি মূর্তি এই গ্রামে বসানো উচিত। পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো এখানকার ইতিহাস কোনওদিন জানতেই পারবে না।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ