সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হল দু’টি গোডাউন ও একটি দোকান। ভস্মীভূত গুদাম দু’টির মধ্যে একটি কাঠের ও একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর। সোমবার গভীর রাতে আমতা থানার নতুন রাস্তা মোড়ে থাকা দোকানগুলিতে আগুন লাগে। আগুনে কাঠের দোকানের মালিক সুরেন্দ্র শুক্লা সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগুনে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি।
আমতা নতুন রাস্তা মোড় থেকে কিছুটা দূরে আমতা ঝিকিরার রাস্তার পাশে সুরেন্দ্র শুক্লার কাঠের গুদাম ও কাঠ চেরাইয়ের মিল আছে। সোমবার রাত ২টো নাগাদ কাঠের গুদামে আগুন লাগে। কাঠ ভরতি থাকায় দ্রুত আগুনের গ্রাসে চলে যায় গুদাম। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে কাঠের গুদাম। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা কাঠের গুদামের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক সামগ্রীর গুদামে ও একটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের সামনে থাকা ছোটো চারচাকা গাড়িও আগুনের গ্রাসে চলে যায়। খবর দেওয়া হয় দমকলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আমতা থানার পুলিশও। রাতে টহলদার টিমে থাকা আমতা থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর পরশুরাম গিরি তৎপরতার সঙ্গে কাঠের গুদামের ভিতর থেকে সুরেন্দ্র শুক্লা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বাইরে বের করে আনেন। ফলে প্রাণহানি এড়ানো দিয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সুবিমল পাল সহ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। পরে দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুরেন্দ্র শুক্লা বলেন, সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত জেগে থাকার পর ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ২টো নাগাদ বুঝতে পারি গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন এত তাড়াতাড়ি ভয়াবহ আকার নেবে বুঝতে পারিনি। তিনি জানান আগুনে প্রচুর টাকার কাঠ পুড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে আসেন উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মল মাজি। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সুবিমল পাল বলেন, আমতা থানার পুলিশ অফিসার পরশুরাম গিরি ভিতরে থাকা সবাইকে যেভাবে উদ্ধার করেছেন সেটা প্রশংসনীয়। আমরা ওই পুলিশ অফিসারকে পুরস্কৃত করব।