অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: কালী ও শিবের শিলামূর্তি এক সঙ্গে পূজিত হয় আউশগ্রামের শিবদা গ্রামে। এই কালী কিন্তু পরিচিত অন্ধকালী নামে। মায়ের সঙ্গেই অধিষ্ঠান করছেন মহাদেব। এলাকাবাসীর কাছে যা ভৈরবনাথ নামেই পরিচিত।
অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: কালী ও শিবের শিলামূর্তি এক সঙ্গে পূজিত হয় আউশগ্রামের শিবদা গ্রামে। এই কালী কিন্তু পরিচিত অন্ধকালী নামে। মায়ের সঙ্গেই অধিষ্ঠান করছেন মহাদেব। এলাকাবাসীর কাছে যা ভৈরবনাথ নামেই পরিচিত।
আউশগ্রাম-১ ব্লকের গুসকরা-২ পঞ্চায়েতেরশিবদা গ্রাম। এক সময়ে গ্রামের মহাকাল ভৈরবী ও মহাকাল ভৈরবের পুজোয় মিশ্র পরিবারের সদস্যকে রাজ পুরোহিতের দায়িত্ব দেন বর্ধমানের রাজা। সেই থেকেই গ্রামের মিশ্র পরিবারের সদস্যরাই এই কালীর পূজক। কালীর নাম অন্ধকালী সাধারণত হয় না। মিশ্র পরিবারের মুখে শোনা যায় অন্ধকালীর গল্প।
মিশ্র পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে এক সময় সাধক কমলাকান্ত মায়ের সাধনা করছিলেন। এই গ্রাম তখন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। মায়ের শিলাখণ্ড মূর্তি সেখানে কীভাবে এল, তা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারেন না। সেখানেই সাধক কমলাকান্তএকটি বটগাছতলায় সাধনায় বসতেন। শোনা যায়, একদিন মায়ের পুজো চলাকালীন একদল ডাকাত হানা দেয় সেখানে। তারা সাধক কমলাকান্তকে আক্রান্ত করে। পরে কমলাকান্ত দু:খে মায়ের কাছে গেয়েওঠেন, ‘সার হল মা ওর গায়ের ডাঙা’। এরপরই দেবী রুষ্ট হয়ে ডাকাতদের চোখ অন্ধ করে দেন। যদিও পরে নাকি দেবীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান ডাকাতরা। তারপর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে মা অন্ধকালী নামেই পরিচিত।বর্তমানে অন্ধকালীর সেবাইত এই মিশ্র পরিবার। অন্ধকালীর নিত্যসেবা হয়। অমাবস্যার দিনগুলিতে দেবীর বিশেষ পুজো চলে। বলিদানের প্রথা রয়েছে এখানে। মানত পূরণ হলে বহু ভক্তই কালীপুজোর সময় ছাগবলি দেন। মিশ্র পরিবারের সদস্য দেবীচরণ মিশ্রর কথায়, মা সবার। মায়ের কাছে এলেই মানত পূরণহয়। মা নিরাকার। মা কাউকেই খালি হাতে ফেরান না।
অন্যদিকে, কাটোয়া শহরের মাধাইতলার ভট্টাচার্য বাড়ির বালকেশ্বরী কালীর পুজো হয় মহা সমারোহেই। ১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা তৈরি হয় এখানে। ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্য সঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমরা বাংলাদেশের যশোরে থাকতাম। পরে কাটোয়া আসার পর আমার ছেলে অভীক ভট্টাচার্য ছোট থেকে নিজেই কালী প্রতিমা গড়ে পুজো করত। তাই এর নাম বালকেশ্বরী কালী। পুজোয় এখানে কোনওবলি হয় না। • নিজস্ব চিত্র